“আগ্রাসন দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায় না”: দিল্লির ছাত্র আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য প্রধান বিচারপতি

(Chief Justice of India (CJI) Surya Kant. || File Photo)

ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: সংঘাতময় পরিস্থিতিতে দু-একজন পাথর ছুড়লেও রাষ্ট্রের উচিত সংযম প্রদর্শন করা এবং তরুণদের দিকে কোনো ধরনের আগ্রাসী পদক্ষেপ না নেওয়া—এমনটাই পর্যবেক্ষণে জানাল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্য কান্ত। ২০ জুলাইয়ের সহিংসতার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘কাকরোচ জনতা পার্টি’র বিক্ষোভের আয়োজকদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিতে দায়ের করা একটি আবেদনের শুনানিকালে এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি। সিজেআই স্পষ্ট জানান, ভুল পথে পরিচালিত তরুণরা যদি পাথর ছোড়ার মতো ঘটনাতেও জড়িয়ে পড়ে, তবে তাদের শান্ত করা ও কাউন্সেলিং করা প্রয়োজন। আগ্রাসন দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা উচিত নয়।

শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “যদি কিছু বিভ্রান্ত যুবক পাথর ছোড়ে, তবুও তাদের শান্ত করা এবং তাদের পরামর্শ দেওয়া প্রয়োজন। তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা ও কাউন্সেলিং দরকার। পরাক্রমশালী রাষ্ট্রের কোনো ধরনের আগ্রাসী অবস্থান সামাজিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং সহিংসতা বৃদ্ধি করতে পারে। রাষ্ট্রকে তা এড়িয়ে চলতে হবে।” আদালতের কার্যক্রম চলাকালীন প্রধান বিচারপতি জোর দিয়ে বলেন, তরুণদের ক্ষেত্রে দণ্ডমূলক পদক্ষেপের বদলে সংস্কারমূলক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা উচিত।

সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি দায়ের করেছিলেন ভারতীয় বিমানবাহিনীর (IAF) প্রাক্তন কর্মকর্তা মণীশ কুমার সোলাঙ্কি। তাঁর আইনজীবী আদালতকে জানান, উসকানিমূলক মন্তব্যকারীদের বিরুদ্ধে সরকার শিথিল মনোভাব দেখানোর কারণেই তাঁরা বারবার বিরূপ মন্তব্য করার সাহস পাচ্ছেন। আবেদনকারীর আইনজীবী সোমবার জরুরি শুনানির আর্জি জানিয়ে বলেন, বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিরুদ্ধে এফআইআর না করা বা জেলে না পাঠানো হলেও, তাঁদের অন্তত এক সপ্তাহের জন্য ‘কমিউনিটি সার্ভিস’ বা জনসেবামূলক কাজে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া উচিত।

১৫ দিন পার হয়ে গেলেও আয়োজকদের কোনো জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়নি। ‘সিজেপি’ কোনো নিবন্ধিত সংস্থা নয়, তবুও তারা উচ্চ-নিরাপত্তাবেষ্টিত স্পর্শকাতর এলাকায় এই বিক্ষোভ দেখিয়েছে। সরকার ব্যাকফুটে থাকলেও আইন কোনোভাবে ব্যাকফুটে থাকতে পারে না। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে হওয়া এফআইআর প্রত্যাহার করারও বিরোধিতা করেন তিনি। কারণ হিসেবে বলেন, এটি একটি ভুল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। আজ ‘জেন জি’, কাল ‘জেন আলফা’ বা অন্য কেউ একই পথ অনুসরণ করবে। আবেদনকারীর আইনজীবীর যুক্তি শোনার পর প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত জানান, একই ধরনের বেশ কিছু বিষয় ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রয়েছে। আলাদা করে নোটিশ জারি না করে এই নতুন আবেদনটিকেও পূর্বের বিচারাধীন মামলাগুলোর সঙ্গেই ট্যাগ করে একত্রে শুনানি করা হবে বলে জানান প্রধান বিচারপতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!