ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: বোনের বিয়েতে যোগ দিতে পাওয়া ১৪ দিনের অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ শেষ হয়েছে রবিবার (২৯ ডিসেম্বর)। এরপরই ফের দিল্লির তিহার জেলে ফিরে গেলেন জেএনইউ প্রাক্তন ছাত্রনেতা ও সমাজকর্মী উমর খালিদ।
প্রসঙ্গত, দিল্লির একটি আদালত খালিদকে ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সাময়িক মুক্তির অনুমতি দিয়েছিল। তবে সেই সঙ্গে একাধিক কড়া শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, এই সময়ে তিনি পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের বাইরে কারও সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না, কোনও ধরনের সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন না এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলাও নিষিদ্ধ ছিল। তাঁকে হয় বাড়িতে, নয়তো বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট স্থানেই থাকতে বলা হয়েছিল। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, যেহেতু খালিদের নিজের বোনের বিয়ে, তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাঁকে অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হচ্ছে।
মুক্তির পর পরিবারের সঙ্গে খালিদের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দেখা গিয়েছে। যেখানে তাঁকে প্রিয়জনদের সঙ্গে পুনর্মিলিত হতে দেখা যায়। তবে সেই আনন্দের মুহূর্তের শেষে তিহার জেলে ফিরে গেলেন তিনি। ১৪ দিনের স্বস্তির পর আবার কারাবাসে জেএনইউ প্রাক্তন ছাত্রনেতা।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালেও একটি বিয়ের কারণে ২৩ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক সপ্তাহের জন্য অন্তর্বর্তী জামিন পেয়েছিলেন উমর খালিদ। সেই সময়ও দিল্লির কারকড়ডুমা আদালত কড়া নির্দেশিকা জারি করেছিল, যার মধ্যে সংবাদমাধ্যমে কথা বলা বা সাক্ষাৎকার দেওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা ছিল।
প্রসঙ্গত, উমর খালিদ ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে কারাবন্দি রয়েছেন। ২০২০ সালের দিল্লি দাঙ্গার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন বা ইউএপিএ-র অধীনে মামলা দায়ের করা হয়। ওই দাঙ্গায় ৪০ জনের বেশি মুসলিম নিহত হন, আহত হন ৭০০-রও বেশি মানুষ এবং বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে। দিল্লি পুলিশ অভিযোগ করেছে, উমর খালিদ-সহ শরজিল ইমাম, মহম্মদ সেলিম খান, শিফা উর রহমান, আথার খান, মীরান হায়দার, আবদুল খালিদ সাইফি, গুলফিশা ফাতিমা ও শাদাব প্রমুখ দাঙ্গায় উসকানি দিয়েছিলেন। আদালত একাধিকবার তাঁদের জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।
