ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: আধুনিক সামরিক শক্তির সংজ্ঞা নির্ধারণে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি একটি মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এটি যেমন চূড়ান্ত প্রতিরোধক্ষমতা (ডিটারেন্স) গড়ে তোলে, তেমনই যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকর কৌশলগত অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চিন দীর্ঘদিন ধরেই বিপুল পারমাণবিক ভাণ্ডার ও হাইপারসনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে এই ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। পাশাপাশি ভারত, উত্তর কোরিয়া, ফ্রান্স ও ইজরায়েলের মতো দেশগুলিও দ্রুতগতিতে নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বাড়িয়েছে।
রাশিয়া: হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে শীর্ষে
বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার রাশিয়ার হাতে। একই সঙ্গে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতেও তারা অগ্রগামী। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের দাবি, তাদের ‘আভানগার্দ’ হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল ম্যাক ২৭ গতিতে উড়তে সক্ষম, যা বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে কার্যত প্রতিহত করা অসম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্র: নিখুঁত আঘাত ও বৈশ্বিক পৌঁছ
যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার। এর মধ্যে অত্যন্ত নিখুঁত টোমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি পেন্টাগন ‘লং-রেঞ্জ হাইপারসনিক ওয়েপন’ (এলআরএইচডব্লিউ) মোতায়েনের কাজ শুরু করেছে, যা ২,৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম।
চিন: স্থলভাগ থেকে জাহাজ ধ্বংসের ক্ষমতা
চিন মূলত ‘ক্যারিয়ার-কিলার’ ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর জোর দিয়েছে, যার মাধ্যমে নিজের উপকূলীয় জলসীমায় শত্রু শক্তির প্রবেশ ঠেকানো যায়। ডিএফ-২১ডি ও ডিএফ-২৬ বিশ্বের প্রথম অ্যান্টি-শিপ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে পরিচিত। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলি হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের স্থলভাগ থেকে চলমান এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ারকেও লক্ষ্য করে আঘাত হানতে পারে।
ভারত: অগ্নি-৫ দিয়ে আইসিবিএম সক্ষমতা
অগ্নি-৫ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) সফলভাবে তৈরি করে ভারত তার কৌশলগত প্রতিরোধক্ষমতা আরও মজবুত করেছে। ডিআরডিও-র তৈরি এই সলিড-ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৫,০০০ কিলোমিটারের বেশি, যা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুগুলিকে ভারতের নাগালের মধ্যে এনে দিয়েছে। এর ফলে ভারতও বিশ্বের শীর্ষ ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিধর দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
উত্তর কোরিয়া: আইসিবিএমে অগ্রগতি
উত্তর কোরিয়া হাওয়াসং-১৮-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে আইসিবিএম প্রযুক্তিতে দক্ষতা অর্জন করেছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-র দাবি, এই সলিড-ফুয়েল ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ১৫,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি, যা পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের যেকোনও জায়গায় আঘাত হানতে সক্ষম।
ফ্রান্স: সাবমেরিন থেকে গোপন আঘাত
ফ্রান্সের পারমাণবিক প্রতিরোধব্যবস্থার মূল ভরসা সমুদ্রভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি। ত্রিওঁফঁ শ্রেণির সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য এম৫১ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ফ্রান্সের প্রধান অস্ত্র। ফরাসি সশস্ত্র বাহিনীর মন্ত্রকের মতে, এম৫১.৩ সংস্করণে পাল্লা ও নির্ভুলতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, ফলে বিশ্বের যেকোনও সমুদ্র থেকে পারমাণবিক আঘাত হানার ক্ষমতা নিশ্চিত হয়েছে।
ইজরায়েল: আক্রমণ ও প্রতিরক্ষায় উন্নত প্রযুক্তি
ইজরায়েল আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—দু’ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতেই উল্লেখযোগ্য দক্ষতা দেখিয়েছে। তাদের জেরিকো-৩ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৪,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি বলে জানা যায়। পাশাপাশি ইজরায়েল প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের ‘অ্যারো-৩’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের বাইরে থেকেই শত্রু ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে।
