TOP NEWS

মণীষী থেকে ইতিহাস— সব নিয়েই মিথ্যাচার করছে বিজেপি: কেন্দ্রকে তোপ মমতার

ডেইলি ডোমকল, কলকাতা: নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, মহাত্মা গান্ধী এবং বি আর আম্বেদকরের মতো জাতীয় মণীষীদের অপমান করার অভিযোগে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেতাজির জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রে আসীন শক্তি দেশের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করছে।

রেড রোডের পাদদেশে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী গর্জে উঠে বলেন, “ভারতের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা চলছে। মহাত্মা গান্ধী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু বা বাবাসাহেব আম্বেদকর—সব সাধু-সন্ত ও মণীষীদের অপমান করা হচ্ছে। অসহিষ্ণুতা, কুরুচিকর মন্তব্য এবং ভাষা ও মণীষীদের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হচ্ছে। বাংলা কি এটা মেনে নেবে?”

নেতাজির ঐতিহাসিক ‘দিল্লি চলো’ স্লোগান স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রকে লক্ষ্য করে বলেন, “দিল্লি এখন চক্রান্তনগরী হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা সবসময় বাংলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। আমাদের সংস্কৃতি ও ভাষা রক্ষায় আমরা তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হব।”

নেতাজির স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশাল অবদান থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁর জন্মদিনকে জাতীয় ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হলো না, তা নিয়ে সরব হন মমতা। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্বপ্নকে চুরমার করে দিচ্ছে। তিনি আরও যোগ করেন, “নেতাজি থেকে প্যাটেল—যাঁরা স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ তাঁদের সেই স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। আমাদের দেশের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কহীন এক ইতিহাস চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। সংবিধানকে অপমান করা হচ্ছে, মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। গণতন্ত্রকে আজ নগ্ন করে দেওয়া হয়েছে।”

ভোটার তালিকা সংশোধনী (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনকেও একহাত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেন, নেতাজি আজ বেঁচে থাকলে হয়তো তাঁকেও নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বলা হতো। তিনি বলেন, “সুভাষ বসু আজ বেঁচে থাকলে তাঁকেও হয়তো শুনানির জন্য তলব করা হতো এবং নথিপত্রের অসঙ্গতির অজুহাতে ভারতীয়ত্বের প্রমাণ চাওয়া হতো।” প্রসঙ্গত, নেতাজির প্রপৌত্র চন্দ্র কুমার বসুকে নির্বাচন কমিশন তলব করার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

মুখ্যমন্ত্রীর আরও অভিযোগ, এই সংশোধনী প্রক্রিয়ার সময় ১১০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং এই মৃত্যুর দায় নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারকেই নিতে হবে।

এর আগে সকালেই কেন্দ্রীয় আর্কাইভে থাকা নেতাজি সংক্রান্ত সমস্ত ফাইল অবিলম্বে জনসমক্ষে আনার দাবি জানান তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন যে, তাঁর সরকার অনেক আগেই রাজ্য মহাফেজখানায় থাকা নেতাজি বিষয়ক সব ফাইল প্রকাশ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, “দুর্ভাগ্যবশত নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য আজও অমীমাংসিত। ১৯৪৫ সালের পর তাঁর ভাগ্যে কী ঘটেছিল, তা আমরা জানি না। এটি অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। আমি আবারও ভারত সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যেন নেতাজি সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!