TOP NEWS

“যেখানে SIR, সেখানেই ভোট চুরি”: গুজরাট মডেল নিয়ে সরব রাহুল গান্ধী

Congress MP Rahul Gandhi || File Photo)

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্রতর করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার তিনি অভিযোগ করেছেন, গুজরাটসহ বিভিন্ন রাজ্যে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে “পরিকল্পিত ও কৌশলগত ভোট চুরির” হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

এক্স-এ একটি পোস্টে রাহুল গান্ধী দাবি করেন, যেখানেই SIR বাস্তবায়িত হয়েছে, সেখানেই একই ধরনের কারচুপির ধরণ ফুটে উঠেছে। তিনি বলেন, “যেখানেই SIR, সেখানেই ভোট চুরি হচ্ছে।” তাঁর অভিযোগ, গুজরাটে প্রশাসনিক কাজের নামে যা চলছে তা মোটেও কোনো সাধারণ প্রশাসনিক পদ্ধতি নয়, বরং এটি “ভোট চুরির একটি সুপরিকল্পিত, সুসংগঠিত এবং কৌশলগত প্রচেষ্টা।” বর্তমান পরিস্থিতিকে “বিস্ময়কর ও বিপজ্জনক” বলে বর্ণনা করে রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন, একই ব্যক্তির নামে হাজার হাজার আপত্তি জমা দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সবচেয়ে উদ্বেগজনক তথ্য হলো, একটি একক নামের অধীনে হাজার হাজার আপত্তি নথিভুক্ত করা হয়েছে। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই কীভাবে এই আবেদনগুলি গ্রহণ করা হচ্ছে?”

রাহুল গান্ধী আরও দাবি করেছেন, সমাজের নির্দিষ্ট কিছু অংশ এবং যেসব বুথ কংগ্রেসের সমর্থক হিসেবে পরিচিত, সেগুলিকে বেছে বেছে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “বেছে বেছে নির্দিষ্ট বিভাগ এবং কংগ্রেস-পন্থী বুথগুলি থেকে নাম কাটা হচ্ছে। যেখানেই বিজেপি হারের আশঙ্কা করছে, সেখানেই ভোটারদের সিস্টেম থেকে গায়েব করে দেওয়া হচ্ছে।” অন্যান্য রাজ্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আলান্দ এবং রাজুরাতেও একই নকশা (ব্লুপ্রিন্ট) দেখা গিয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, “সেই একই নকশা এখন গুজরাট, রাজস্থান এবং প্রতিটি রাজ্যে প্রয়োগ করা হচ্ছে যেখানে SIR চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।”

বিজেপি-র বিরুদ্ধে সাংবিধানিক অধিকার হরণের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “‘এক ব্যক্তি, এক ভোট’-এর সাংবিধানিক অধিকার ধ্বংস করার অস্ত্র হিসেবে SIR-কে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর ফলে জনগণ নয়, বরং বিজেপি ঠিক করবে কে শাসন করবে।” রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের কয়েক দিন আগেই গুজরাটের বিরোধী দলগুলো একই ধরণের অভিযোগ তুলেছিল। ২১ জানুয়ারি আমেদাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে আম আদমি পার্টির গুজরাট সভাপতি ইসুদান গাধভি দাবি করেন, SIR চলাকালীন ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য ৯ লক্ষেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছে। তিনি বলেন, “এত বিপুল সংখ্যক আবেদন অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং গণতন্ত্রকে দুর্বল করার লক্ষ্যেই এটি করা হয়েছে।”

একই সুর শোনা গেছে গুজরাট প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অমিত চাভডার কণ্ঠেও। তিনি অভিযোগ করেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১০ লক্ষ ভুয়া ‘ফর্ম-৭’ আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। চাভডা বলেন, “১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ফর্ম-৭ আবেদনের সংখ্যা ছিল নগণ্য, কিন্তু ১৬ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে হঠাৎ করে স্তূপাকারে আবেদন জমা পড়ে। এটি স্পষ্টতই একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।” তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে স্বচ্ছতা দাবি করেছেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কোনো যোগ্য ভোটারের নাম বাদ গেলে তারা আইনি পদক্ষেপ ও গণবিক্ষোভের পথে হাঁটবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!