ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে এক নতুন ভোরের সূচনা হলো। বারামতির মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পওয়ারের প্রয়াণের পর, তাঁর রাজনৈতিক উত্তরসূরি হিসেবে মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন সুনেত্রা পওয়ার। শোকাতুর মহারাষ্ট্রের প্রশাসনিক ভার গ্রহণ করলেন সুনেত্রা পওয়ার। শনিবার রাজভবনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাজ্যের প্রথম মহিলা উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। শপথ গ্রহণের পর সুনেত্রা পওয়ারকে যে দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সেগুলি হল- আবগারি, ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ এবং সংখ্যালঘু উন্নয়ন দপ্তর।
গত বুধবার বারামতিতে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় অজিত পওয়ার এবং আরও চারজনের অকাল প্রয়াণের পর, এনসিপি (NCP) দলের হাল ধরতে এবং সরকারি দায়িত্ব পালনে ৬২ বছর বয়সী সুনেত্রা পওয়ারকেই বেছে নিলেন দলীয় বিধায়করা।
এদিন সকালে বিধান ভবনে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির বিধায়ক দলের বৈঠকে সুনেত্রা পওয়ারকে সর্বসম্মতিক্রমে দলনেত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। তাঁর নাম প্রস্তাব করেন প্রবীণ নেতা ছগন ভুজবল এবং তা সমর্থন করেন দিলীপ পাটিল সহ দলের অন্যান্য বিধায়করা। এই সিদ্ধান্তের কথা মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসকে জানানো হলে তিনি তৎক্ষণাৎ তা রাজ্যপাল আচার্য দেবব্রতর কাছে সুপারিশ করেন।
সুনেত্রা পওয়ার শপথ নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি নিজের এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, “মহারাষ্ট্রের প্রথম মহিলা উপ-মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় সুনেত্রা পওয়ারজিকে আমার অনেক শুভেচ্ছা। আমি আত্মবিশ্বাসী যে তিনি রাজ্যের মানুষের কল্যাণে নিরলস কাজ করবেন এবং প্রয়াত অজিতদাদা পওয়ারের স্বপ্নপূরণ করবেন।”
অজিত পওয়ারের মৃত্যুতে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছিল, তা সুনেত্রা পওয়ারের অভিষেক দিয়ে পূরণ করার চেষ্টা করল ‘মহায়ুতি’ জোট। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে না পড়ে যেভাবে তিনি দলের হাল ধরেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দলীয় বিধায়ক এবং কর্মীদের আবেগ ধরে রাখতে ‘বাহিনী’ (বৌদি)-র এই নতুন ইনিংস কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।
