ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: সংসদীয় নথিতে যুক্ত হলো আরও এক সংঘাতপূর্ণ দিন। মঙ্গলবার লোকসভার কার্যপ্রণালী শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও হট্টগোলের জেরে বিরোধী শিবিরের আটজন সংসদ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করলেন স্পিকার। প্রাক্তন সেনাপ্রধান এমএম নারাভানের স্মৃতিকথাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই বিবাদ রূপ নিল এক বড় রাজনৈতিক সংঘাতে। মঙ্গলবার বিকেলে লোকসভার অধিবেশন শুরু হতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সংসদ কক্ষ। দুপুর ৩টে নাগাদ অধিবেশন পুনরায় শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বিরোধী জোটের আটজন সংসদ সদস্যকে চলতি অধিবেশনের বাকি সময়ের জন্য বরখাস্ত করা হয়। কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে একটি প্রস্তাব পেশ করেন, যা ধ্বনিভোটে পাশ হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানের স্মৃতিকথা (Memoir) থেকে একটি নিবন্ধ উদ্ধৃত করার চেষ্টা করেন। রাহুল গান্ধী দাবি করেন যে, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রাক্তন সেনাপ্রধানের বইতে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ রয়েছে। বিরোধী দলনেতার এই বক্তব্যে আপত্তি জানায় ট্রেজারি বেঞ্চ বা শাসক পক্ষ। শুরু হয় তুমুল বাকবিতণ্ডা। বিরোধীরা ওয়েলে নেমে এসে স্লোগান দিতে শুরু করেন। উত্তেজনার এক পর্যায়ে ক্ষুব্ধ বিরোধী সংসদ সদস্যরা কাগজের টুকরো ছিঁড়ে স্পিকারের আসনের দিকে ছুড়তে থাকেন বলে অভিযোগ। সংসদীয় বিধি লঙ্ঘন এবং অধিবেশনে বাধা সৃষ্টির দায়ে যাদের বরখাস্ত করা হয়েছে, তাঁরা সকলেই কংগ্রেসের সংসদ সদস্য। তালিকায় রয়েছেন:
মাণিকম ঠাকুর
হিবি ইডেন
অমরিন্দর সিং রাজা ওয়ারিং
গুরজিৎ আউজলা
কিরণ রেড্ডি
এস ভেঙ্কট রমন
প্রশান্ত পাডোল
ডিন কুরিয়াকোস
সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু অভিযোগ করেন যে, বিরোধীরা ইচ্ছাকৃতভাবে সংসদের গরিমা নষ্ট করছেন এবং গঠনমূলক আলোচনায় বাধা দিচ্ছেন। তিনি বলেন, স্পিকারের দিকে কাগজ ছোড়া অত্যন্ত অবমাননাকর এবং এটি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা যায় না। এই শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বরখাস্ত হওয়া সংসদ সদস্যদের দাবি, সরকার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধী দলনেতার মুখ বন্ধ করতে চাইছে। সেনাপ্রধানের স্মৃতিকথায় থাকা তথ্যগুলো প্রকাশ্যে আসার ভয়েই তড়িঘড়ি এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। এই ঘটনার জেরে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী শিবিরের দূরত্ব আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সংসদ চত্বরে বরখাস্ত হওয়া সদস্যরা গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ধরনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলেও জানা গিয়েছে।
