TOP NEWS

উত্তাল সংসদ: বাজেট আলোচনায় বিরোধীদের বাধা, সোমবার পর্যন্ত মুলতুবি লোকসভা

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: শুক্রবার লোকসভায় বাজেট আলোচনা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিরোধীদের প্রবল বিক্ষোভে কার্যত অচল হয়ে পড়ল সংসদ। ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি থেকে শুরু করে প্রাক্তন সেনাপ্রধানের স্মৃতিকথা—একাধিক ইস্যুতে সরব হন বিরোধী সাংসদরা। প্রবল স্লোগান ও প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের জেরে শেষ পর্যন্ত অধিবেশন সোমবার পর্যন্ত মুলতুবি করে দেওয়া হয়।

এদিন বেলা ১১টায় লোকসভা শুরু হতেই বিরোধীরা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন। স্পিকার ওম বিড়লা বারবার অনুরোধ করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় মাত্র ৫ মিনিটের মধ্যেই সভা দুপুর ১২টা পর্যন্ত স্থগিত করে দেওয়া হয়।

দুপুর ১২টায় ফের অধিবেশন শুরু হলে দেখা যায় পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। সভার সভাপতিত্ব করছিলেন কৃষ্ণ কুমার তেন্নেতি। তিনি জানান, বিরোধীদের দেওয়া সমস্ত ‘মুলতুবি প্রস্তাব’ (Adjournment Motion) স্পিকার খারিজ করে দিয়েছেন। এর পরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা-সহ অন্যান্যরা তাঁদের নির্ধারিত নথিপত্র পেশ করতে শুরু করলে বিরোধী সাংসদরা স্পিকারের আসনের সামনে চলে আসেন এবং প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। ক্রমাগত হট্টগোলের জেরে শেষ পর্যন্ত সোমবার পর্যন্ত সভা মুলতুবি করা হয়।

সংসদ ভবনের মকর দ্বারের সামনে ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান বিরোধী সাংসদরা। এই চুক্তিকে ‘ফাঁদ’ বা ‘Trap Deal’ বলে উল্লেখ করে বড় ব্যানার নিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায় তাঁদের। এই প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রও। সেখানে তাঁদের গলায় “জো উচিত সমঝোঁ ওহি করো” (যা সঠিক মনে করো তাই করো) এবং “তানাশাহি নেহি চলেগি” (স্বৈরাচার চলবে না)-র মতো স্লোগান শোনা যায়।

সংসদের উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে রাহুল গান্ধী ও বিজেপি সাংসদ রবনীত সিং বিট্টুর বাক্যযুদ্ধ। বুধবার সংসদের করিডোরে বিট্টুকে দেখে রাহুল গান্ধী ‘গাদ্দার’ বা ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন বলে অভিযোগ। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের জবাবি ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কংগ্রেসের ‘যুবরাজ’ এই কক্ষের এক সদস্যকে বিশ্বাসঘাতক বলেছেন। তাঁর অহঙ্কার এখন চরম সীমায়। তিনি অন্যদের গাদ্দার বলেননি, কিন্তু বিট্টুকে বলেছেন কারণ তিনি একজন শিখ। এটি শিখ সম্প্রদায়ের অপমান।” জবাবে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তাঁর সেই বহুল চর্চিত উক্তি “জো উচিত সমঝোঁ ওহি করো” পুনর্ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারও লোকসভা উত্তপ্ত ছিল অন্য একটি ইস্যুতে। ২০২০ সালের গালওয়ান সীমান্তে চিনা অনুপ্রবেশ নিয়ে প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানের অপ্রকাশিত স্মৃতিকথা থেকে রাহুল গান্ধীকে উদ্ধৃতি দিতে বাধা দেওয়া হয়। বিরোধীদের অভিযোগ, সরকার সেনাপ্রধানের স্মৃতিকথা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। সব মিলিয়ে আগামী সোমবার বাজেট আলোচনা পুনরায় শুরু হলেও সংসদ যে পুনরায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!