TOP NEWS

মাঝ আকাশে নিভে গেল প্রাণস্পন্দন: ঝাড়খণ্ডে এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স দুর্ঘটনায় রোগীসহ মৃত ৭

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: চিকিৎসার আশায় রাঁচী থেকে দিল্লি যাচ্ছিলেন মুমূর্ষু এক রোগী। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই মাঝ আকাশে ঘটে গেল ভয়াবহ বিপর্যয়। ঝাড়খণ্ডের চাতরা জেলার গভীর জঙ্গলে ভেঙে পড়ল একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স। এই দুর্ঘটনায় বিমানের দুই চালক (ক্যাপ্টেন)-সহ মোট ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল রাতের এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা দেশে।

জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনাগ্রস্ত এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সটি রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড (Redbird Airways Private Limited) দ্বারা পরিচালিত হচ্ছিল। গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ১১ মিনিটে রাঁচী বিমানবন্দর থেকে একজন রোগীকে নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয় বিশেষ এই চার্টার্ড বিমানটি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাত ১০টা নাগাদ দিল্লির বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা ছিল বিমানটির। কিন্তু উড্ডয়নের মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই ঘটে যায় বিপর্যয়। রাত ৭টা ৩১ মিনিট নাগাদ এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের (ATC) সঙ্গে বিমানটির সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ রাডারে কোনো সঙ্কেত না মেলায় তল্লাশি শুরু হয় এবং পরে জানা যায়, চাতরা জেলার সীমারিয়ার কাছে গভীর জঙ্গলে বিমানটি আছড়ে পড়েছে।

দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে বিমানের আরোহী কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হয়নি। মৃতদের মধ্যে রয়েছেন- বিমানের ২ জন অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেন। চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া সেই মুমূর্ষু রোগী। রোগীর সঙ্গে থাকা আত্মীয় ও চিকিৎসাকর্মী মিলিয়ে আরও ৪ জন। ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল চাতরার দুর্গম জঙ্গলে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। রাতের অন্ধকার এবং ঘন জঙ্গল হওয়ায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হলেও আজ ভোরের মধ্যে সমস্ত দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “এই দুঃসংবাদ অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর পাশে আমরা রয়েছি।” কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রকও ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।

এদিকে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, যান্ত্রিক গোলযোগ বা প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ব্ল্যাক বক্স উদ্ধার হওয়ার পরেই প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। কেন ২০ মিনিটের মাথায় হঠাৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলো, তা নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!