ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যাকাণ্ডের জেরে কাশ্মীরে তীব্র বিক্ষোভ ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলার তীব্র সমালোচনা করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কোন আন্তর্জাতিক আইন বা নীতি অনুযায়ী একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর এমন হামলা চালিয়ে সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়?
মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ওমর আব্দুল্লাহ বলেন, “ইরানের জনগণ ঠিক করবেন তারা কেমন সরকার চান। আমেরিকানরা যেমন তাদের প্রেসিডেন্ট বেছে নেন, ভারতীয়রা যেমন তাদের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন—ইরানের ক্ষেত্রেও সেই অধিকার তাদেরই থাকা উচিত। কোনো আন্তর্জাতিক আইনই আগ্নেয়াস্ত্রের জোরে শাসনক্ষমতা পরিবর্তনের অনুমতি দেয় না।”
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “খামেনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। যদি এই হামলাকে সঠিক ধরা হয়, তবে তো ইউক্রেনে রাশিয়ার পদক্ষেপও সঠিক। এমনকি ভবিষ্যতে ভারত যদি কোনো প্রতিবেশী দেশে প্রবেশ করে, তবে সেটিও কি সঠিক বলে গণ্য হবে? আমি ইরানের জনগণের প্রতি সংহতি জানাই এবং এই হামলার তীব্র নিন্দা করছি।”
এদিকে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শিয়া মুসলিমরা তাদের প্রধান ধর্মীয় নেতা হিসেবে গণ্য করেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে কাশ্মীরের শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় শ্রীনগরের বেশ কিছু এলাকা।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে শিয়া মুসলিমরা তাদের প্রধান ধর্মীয় নেতা হিসেবে গণ্য করেন। তাঁর মৃত্যুর খবরে কাশ্মীরের শিয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলে রণক্ষেত্রের রূপ নেয় শ্রীনগরের বেশ কিছু এলাকা। নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৬ জন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে উপত্যকার বেশ কিছু এলাকায় কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ওমর আব্দুল্লাহ বলেন, “কিছু মানুষ এই পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীকে ক্ষমতার অপব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছি। কোনো প্রাণহানি বা বড় দুর্ঘটনা ঘটলে তা হবে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেখানে অবস্থানরত ভারতীয় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, তিনি এই বিষয়ে নিয়মিত কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। জম্মু ও কাশ্মীরের যে শিক্ষার্থীরা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছেন, তাদের ভারতীয় দূতাবাসের নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ধর্মীয় নেতাদের প্রতি শান্তি বজায় রাখার এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার বিশেষ আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
