TOP NEWS

কুর্সি ছাড়ছেন ‘সুশাসন বাবু’! নীতীশ-শূন্য বিহারের মসনদে এবার কি পদ্ম-রাজ?

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: বিহারের রাজনীতিতে কি এক দীর্ঘস্থায়ী অধ্যায়ের অবসান হতে চলেছে? এই নিয়েই প্রশাসনিক অলিন্দে চলছে জোর গুঞ্জন। মুখ্যমন্ত্রী পদ ছেড়ে এবার দিল্লির সংসদীয় রাজনীতিতে বা রাজ্যসভায় যেতে পারেন নীতীশ কুমার। এমনটাই জল্পনা শুরু হয়েছে। আর নীতীশ শূন্যস্থান পূর্ণ করতে পারেন বিজেপির কোনো হেভিওয়েট নেতা। এই রদবদলের হাত ধরে নীতীশ-পুত্র নিশান্ত কুমারেরও সক্রিয় রাজনীতিতে অভিষেক হতে পারে বলে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবদেনে বলা হয়েছে, বিহারের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পালাবদলের ইঙ্গিত মিলছে। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিহারের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা নীতীশ কুমার এবার মুখ্যমন্ত্রীর কুরসি ছেড়ে রাজ্যসভায় যেতে পারেন বলে সূত্রের খবর। চলতি সপ্তাহেই রাজ্যসভা নির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা, আর সেখানেই নীতীশের নাম থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

নীতীশ কুমারের ঘনিষ্ঠ মহল এবং জেডিইউ-র অন্দরে এখন কার্যত বিষাদের সুর। তাঁরই সমগোত্রীয় এক প্রভাবশালী নেতা জানিয়েছেন, “সবটাই দিল্লিতে বসে ঠিক হয়ে গিয়েছে।” সূত্রের দাবি, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই নীতীশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে নীতীশ কুমার নিজে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি।

দীর্ঘদিন ধরে বিহারের একক ক্ষমতায় বসার যে বাসনা বিজেপির ছিল, নীতীশের এই সম্ভাব্য প্রস্থান তাকেই বাস্তবায়িত করতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, বিহারের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন বিজেপির কোনো নেতা। দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। অন্যদিকে, নীতীশ কুমারের পুত্র নিশান্ত কুমারকে রাজ্যের উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদে বসিয়ে তাঁকে রাজনীতির মূল স্রোতে নিয়ে আসা হতে পারে।

৭৫ বছর বয়সী নীতীশ কুমার বিহারের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় মুখ্যমন্ত্রী পদে আসীন থাকার রেকর্ড গড়েছেন। মোট ১০ বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। ২০১৫ সাল থেকে টানা এই পদে রয়েছেন তিনি (মাঝে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য জিতন রাম মাঝি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন)। ২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগেই এই পরিবর্তনের কথা ভাবা হয়েছিল, তবে নীতীশের বর্ণময় রাজনৈতিক কেরিয়ারের কথা মাথায় রেখে বিজেপি কোনো তাড়াহুড়ো করতে চায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নীতীশ কুমারকে কেন্দ্রে পাঠিয়ে বিহারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে চাইছে বিজেপি। অন্যদিকে, নীতীশ কুমারও হয়তো তাঁর উত্তরাধিকারী হিসেবে পুত্রকে প্রশাসনিক দায়িত্বে রেখে একপ্রকার ‘সেফ এক্সিট’ চাইছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!