TOP NEWS

ইরানের হামলা অত্যান্ত নিখুঁত, মধ্যপ্রাচ্যে সব মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস: বিস্ফোরক দাবি প্রাক্তন মার্কিন কর্নেলের

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান বনাম ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাত যখন চরম শিখরে, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক দাবি করে আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিলেন প্রাক্তন মার্কিন সেনা কর্নেল ডগলাস ম্যাকগ্রেগর। বুধবার একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত সমস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং বন্দর পরিকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে ইরান। শুধু তাই নয়, সূক্ষ্মভাবে টার্গেটে হামলা করছে তারা। এই যুদ্ধে ইরান অভাবনীয় সাফল্য পাচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।

ম্যাকগ্রেগরের এই দাবি এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন যে আমেরিকা ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে কার্যত ‘গুঁড়িয়ে’ (Obliterated) দিয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই সাক্ষাৎকারে ডগলাস ম্যাকগ্রেগর জানিয়েছেন, ইরানের এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে রাশিয়া ও চিনের সক্রিয় সহযোগিতা। তাঁর বক্তব্য, “চিন ও রাশিয়া ইরানকে উপগ্রহ মারফত গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সাহায্য করছে। এর ফলেই ইজরায়েল এবং আমাদের (মার্কিন) ঘাঁটিগুলোতে নিখুঁত হামলা চালাতে সক্ষম হচ্ছে তেহরান। আমাদের সবকটি ঘাঁটি ধ্বংস হয়ে গেছে। বন্দরগুলোও এখন অকেজো।”

চাঞ্চল্যকর দাবি হিসেবে ম্যাকগ্রেগর উল্লেখ করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ঘাঁটি হারানোর ফলে মার্কিন বাহিনীকে এখন ভারতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তাঁর কথায়, “আমাদের এখন পিছু হটে ভারত এবং ভারতীয় বন্দরগুলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আমাদের চরম হতাশ করে দিয়ে ইরান এই যুদ্ধে অত্যন্ত ভালো অবস্থানে রয়েছে।”

তবে ম্যাকগ্রেগরের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন ও মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন সেনার অভিযানে ইরানের সামরিক পরিকাঠামো প্রায় নিশ্চিহ্ন। মার্কিন শীর্ষ সেনাকর্তারা জানিয়েছেন, তাঁদের মূল লক্ষ্য ইরানের আক্রমণাত্মক ক্ষমতাকে খর্ব করা। মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস হওয়া বা ওই অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব কমে যাওয়ার দাবিকে তাঁরা ভিত্তিহীন বলেই মনে করছেন।

ম্যাকগ্রেগরের মতো একজন প্রাক্তন পদস্থ সেনা কর্তার এই দাবি ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘সাফল্যের’ দাবি, অন্যদিকে ম্যাকগ্রেগরের ‘বিধ্বস্ত ঘাঁটি’র তত্ত্ব—এই দুইয়ের টানাপোড়েনে মধ্যপ্রাচ্যের প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশা বাড়ছে। বিশেষ করে ভারতের বন্দর ব্যবহারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!