ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কি মানুষের কর্মসংস্থান দখল করে নেবে? এই দুশ্চিন্তা যখন বিশ্বজুড়ে তুঙ্গে, তখন একটি নতুন গবেষণায় আশার আলো দেখিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যানথ্রোপিক’। তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, সব ধরনের পেশা এআই-এর কবলে পড়ার সমান ঝুঁকিতে নেই। বিশেষ করে শারীরিক শ্রমনির্ভর বা ‘হ্যান্ডস-অন’ পেশাগুলো আপাতত এই প্রযুক্তি থেকে অনেকটাই নিরাপদ।
নিরাপদ থাকছে কোন পেশাগুলো?
অ্যানথ্রোপিকের ‘লেবার মার্কেট ইমপ্যাক্টস অফ এআই’ শীর্ষক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশ্বের প্রায় ৩০ শতাংশ কর্মীর কাজ এআই দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ এই কাজগুলোর জন্য সরাসরি শারীরিক উপস্থিতি এবং ম্যানুয়াল শ্রম প্রয়োজন।
ঝুঁকিমুক্ত তালিকার শীর্ষে রয়েছে:
রান্না ও আতিথেয়তা: বাবুর্চি (Cook), বারটেন্ডার এবং ডিশওয়াশার।
কারিগরি কাজ: মেকানিক এবং সমজাতীয় রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী।
সেবামূলক কাজ: যেখানে মানুষের সরাসরি শারীরিক শ্রম ও উপস্থিতির বিকল্প নেই।
যেহেতু চ্যাটজিপিটি (ChatGPT) বা ক্লদ (Claude)-এর মতো লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো শারীরিক কোনো কাজ করতে পারে না, তাই এই ক্ষেত্রগুলোতে অটোমেশনের ভয় অনেক কম।
বিপাকে ‘হোয়াইট কলার’ বা দাপ্তরিক পেশাজীবীরা
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা অফিসে বসে কাজ করেন বা বুদ্ধিবৃত্তিক পেশায় নিয়োজিত, তাদের ওপর এআই-এর প্রভাব হবে সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিত এবং অধিক বেতনভুক্ত পেশাজীবীরাই বেশি ঝুঁকিতে আছেন।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকা ক্ষেত্রগুলো:
কম্পিউটার ও গণিত: এই খাতের প্রায় ৯৪ শতাংশ কাজ তাত্ত্বিকভাবে এআই দিয়ে করা সম্ভব।
আইনি ও অর্থায়ন: আইনজীবী এবং আর্থিক বিশ্লেষকদের কাজের একটি বড় অংশ এআই দখল করতে পারে।
ব্যবস্থাপনা ও ব্যবসা: কম্পিউটার সায়েন্স ও ম্যানেজমেন্টের মতো পেশাগুলোও উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, তাত্ত্বিকভাবে ৯৪ শতাংশ কাজ এআই-এর করার কথা থাকলেও বাস্তবে কর্মক্ষেত্রে এর ব্যবহার এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৩ শতাংশে সীমাবদ্ধ। আইনি জটিলতা, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা এবং মানুষের তদারকির প্রয়োজনীয়তার কারণেই এই ব্যবধান বজায় রয়েছে।
প্রযুক্তিবিদদের সতর্কতা
অ্যানথ্রোপিকের সিইও দারিও আমোদেই সতর্ক করে বলেছেন যে, এআই প্রবেশিক স্তরের দাপ্তরিক কাজগুলোকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে। মাইক্রোসফটের এআই প্রধান মুস্তাফা সুলেমানও মনে করেন, এআই-এর ক্ষমতা যত বাড়বে, পেশাদারদের ভূমিকাও তত নাটকীয়ভাবে বদলে যাবে। গবেষণাটি বলছে, যদিও এখনও গণহারে ছাঁটাই শুরু হয়নি, তবে এআই-প্রভাবিত খাতগুলোতে নতুন কর্মী নিয়োগের হার আগের তুলনায় অনেকটাই ধীর হয়ে এসেছে।
