TOP NEWS

দীর্ঘ ১২ বছরের কোমা থেকে মুক্তি: গাজিয়াবাদের হরিশ রানার ‘স্বেচ্ছামৃত্যুর’ অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: দীর্ঘ ১২ বছরের যন্ত্রণাদায়ক অপেক্ষার অবসান। গাজিয়াবাদের ৩১ বছর বয়সী যুবক হরিশ রানা, যিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কোমাচ্ছন্ন অবস্থায় শয্যাশায়ী ছিলেন, তাঁর ‘প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া’ বা স্বেচ্ছামৃত্যুর (চিকিৎসা প্রত্যাহার) অনুমতি দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায় একাধারে যেমন আইনি বাস্তবতার প্রতিফলন, তেমনই মানবিক অনুভূতির এক অনন্য দলিল।

মঙ্গলবার শীর্ষ আদালতের তিন সদস্যের বেঞ্চ হরিশ রানার চিকিৎসকদের এই মর্মে নির্দেশ দিয়েছে যে, তাঁকে এইমস (AIIMS)-এর প্যালেটিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তরিত করা হোক। সেখান থেকেই তাঁর লাইফ সাপোর্ট বা কৃত্রিম জীবনদায়ী ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে প্রত্যাহার করা হবে। আদালতের বিশেষ নির্দেশ, এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত যত্ন সহকারে এবং এমন একটি পরিকল্পিত পদ্ধতিতে করতে হবে যাতে রোগীর ‘মর্যাদা’ (dignity) অক্ষুণ্ণ থাকে।

আইনি যুক্তির বাইরে গিয়েও এদিন সুপ্রিম কোর্ট হরিশ রানার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। দীর্ঘ ১২ বছর ধরে যে পরিবার তাঁর পাশে অটলভাবে দাঁড়িয়েছিল, তাঁদের প্রশংসা করে আদালত বলে, “কাউকে ভালোবাসা মানেই হলো অন্ধকারতম সময়েও তাঁর যত্ন নেওয়া।” আদালতের মতে, আজকের এই সিদ্ধান্তটি কেবল শীতল আইনি যুক্তিতে মাপা সম্ভব নয়। রায় দেওয়ার সময় বেঞ্চ আবেগঘন স্বরে জানায়, “আমাদের আজকের সিদ্ধান্তটি হয়তো যুক্তির কঠিন ছাঁচে পুরোপুরি খাপ খাবে না, কিন্তু এটি ভালোবাসা, জীবন এবং হারানোর এক অনন্য মেলবন্ধন।”

দেশের বিচারব্যবস্থায় ‘এন্ড অফ লাইফ কেয়ার’ বা জীবনাবসানের মুহূর্ত নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ আইন নেই। এই শূন্যতা পূরণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে অতি দ্রুত উপযুক্ত আইন নিয়ে আসার পরামর্শ দিয়েছে আদালত। বর্তমান পরিস্থিতিতে আদালতের হস্তক্ষেপেই এমন সংবেদনশীল সিদ্ধান্তের পথ প্রশস্ত করতে হচ্ছে, যা প্রশাসনিক আইন থাকলে আরও সহজ হতো।

প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া হলো এমন এক প্রক্রিয়া, যেখানে কোনো রোগীর জীবনদায়ী চিকিৎসা বা সাপোর্ট সিস্টেম প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, কারণ সেই রোগী আর সুস্থ হওয়ার অবস্থায় নেই এবং বিষয়টি কেবল যন্ত্রণাকে দীর্ঘায়িত করছে। হরিশ রানার ক্ষেত্রে দীর্ঘ ১২ বছরের কোমা পরিস্থিতি চিকিৎসকদের মতে অপরিবর্তনীয় ছিল।

হরিশ রানার পরিবার যে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, তা এক চরম যন্ত্রণাদায়ক অভিজ্ঞতার ফসল। আদালতের এই রায় কেবল একটি জীবনের সমাপ্তি নয়, বরং এক দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতি এবং মর্যাদা নিয়ে চিরশান্তিতে যাওয়ার অনুমতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!