ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধের মেঘ এবং তার জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া অস্থিরতা মোকাবিলায় কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াল নয়াদিল্লি। বুধবার ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU), ফ্রান্স এবং রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথকভাবে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা সারলেন। মূলত বর্তমান পরিস্থিতির মূল্যায়ন এবং এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে এই আলোচনা হয়েছে।
বুধবার বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ জানান, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিদেশ নীতি প্রধান কাজাস কালাস-এর সঙ্গে বর্তমান সংকটের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন। এরপর তিনি ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারো-র সঙ্গেও কথা বলেন। এই আলোচনাকে ‘গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করে জয়শঙ্কর জানান, খুব শীঘ্রই ফরাসি বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে সশরীরে সাক্ষাতের মাধ্যমে এই আলোচনা আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
একই দিনে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ-এর সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেন জয়শঙ্কর। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের পাশাপাশি ভারত ও রাশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও তাঁদের মধ্যে পর্যালোচনা হয়। জয়শঙ্কর বলেন, “বিদেশমন্ত্রী লাভরভের সঙ্গে আলাপচারিতা অত্যন্ত ভালো হয়েছে। আমরা পশ্চিম এশিয়া সংঘাত এবং প্রাসঙ্গিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা নিয়ে আমাদের মূল্যায়ন ভাগ করে নিয়েছি।”
নয়াদিল্লির এই ঘনঘন কূটনৈতিক বৈঠকের নেপথ্যে মূলত তিনটি প্রধান কারণ রয়েছে। প্রথমটি পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে ভারতের অর্থনীতিতে। দ্বিতীয়টি সংঘাতের জেরে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথগুলি সংকটে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তৃতীয় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে কয়েক লক্ষ ভারতীয় কর্মরত। তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ভারত সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ভারত শুরু থেকেই পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর পাশাপাশি প্রধান আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছে। সরকারি আধিকারিকদের মতে, নয়া দিল্লি পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে এবং সেই অনুযায়ী নিজেদের কূটনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করছে। এই আলোচনার ধারা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
