TOP NEWS

গাজা যুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েলে বিপুল অস্ত্র রপ্তানি সুইজারল্যান্ডের: চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: গাজায় চলমান যুদ্ধের আবহে ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম এবং দ্বৈত-ব্যবহারের পণ্য রপ্তানি নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সুইজারল্যান্ডের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম ‘আরটিএস’ (RTS)-এর এক সাম্প্রতিক তদন্তমূলক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ মাসের মধ্যে সুইস কোম্পানিগুলো প্রায় ২৪ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্ক বা ৩০.৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম ও দ্বৈত-ব্যবহারের পণ্য ইসরায়েলে রপ্তানি করেছে।

আরটিএস-এর তদন্তে উঠে এসেছে, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময়ও বেশ কয়েকটি সুইস প্রতিষ্ঠান এমন সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে, যা সামরিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে এই ধরনের পণ্য রপ্তানি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের প্রথম তিন মাসে প্রায় ৬ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্ক মূল্যের দ্বৈত-ব্যবহারের পণ্য ইসরায়েলে পাঠানো হয়েছে, যেখানে ২০২৩ সালের শেষ তিন মাসে এই পরিমাণ ছিল মাত্র ২ লাখ ৩৮ হাজার সুইস ফ্রাঙ্ক।

রিপোর্ট অনুযায়ী, রপ্তানি করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে লেজার-কাটিং মেশিন, উচ্চ-নির্ভুল যন্ত্রাংশ, হাইব্রিড ইলেকট্রনিক সার্কিট এবং সামরিক সরঞ্জামে ব্যবহৃত বিশেষ রং। প্রতিবেদনে ট্রাম্পফ শওয়েইজ এজি (TRUMPF Schweiz AG), স্টারাগটোরনোস (StarragTornos), মেটালক্স (Metallux), মিপা কোটিংস শওয়েইজ এজি (Mipa Coatings Schweiz AG) এবং জর্জ ফিশার এজি (Georg Fischer AG)-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে কিছু সরঞ্জাম ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এলবিট সিস্টেমস (Elbit Systems)-এর সাথে যুক্ত বিভিন্ন সংস্থায় সরবরাহ করা হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের স্টেট সেক্রেটারিয়েট ফর ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স (SECO), যারা এই ধরনের পণ্য রপ্তানির লাইসেন্স অনুমোদন করে তারা জানিয়েছে, এই চালানগুলো সুইজারল্যান্ডের বিদ্যমান আইন মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে এই সরকারি নীতি এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সুইস আইন অনুযায়ী সংঘাতপূর্ণ এলাকায় অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি নিষিদ্ধ হলেও, ‘দ্বৈত-ব্যবহার’ বা সামরিক ও বেসামরিক উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহারযোগ্য—এই তকমা ব্যবহার করে রপ্তানি প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা দাবি করে, তাদের রপ্তানি কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে সুইস রেগুলেশন এবং SECO-এর লাইসেন্সিং সিদ্ধান্তের অধীনেই পরিচালিত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!