ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের সম্বলের একটি মসজিদে নামাজ পড়তে আসা মানুষের সংখ্যার ওপর জেলা প্রশাসনের জারি করা বিধিনিষেধকে খারিজ করে দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। শনিবার বিচারপতি সিদ্ধার্থ নন্দন ও বিচারপতি অতুল শ্রীধরনের ডিভিশন বেঞ্চ এই নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি, আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার অভিযোগে জেলা প্রশাসনকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছে আদালত।
শুনানির সময় ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, যদি স্থানীয় প্রশাসন আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অক্ষম হয়, তবে সেই আধিকারিকদের সরে দাঁড়ানো উচিত। আদালত মন্তব্য করে, “যদি জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপার মনে করেন যে বিপুল সংখ্যক মানুষ প্রার্থনা করতে এলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে, তবে তাঁদের নিজেদের পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া বা সম্বলের বাইরে বদলি নেওয়া উচিত।”
আদালত আরও জোর দিয়ে বলে, সব পরিস্থিতিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। যে আধিকারিকরা আইনের শাসন বজায় রাখতে সক্ষম নন, তাঁদের দায়িত্বে থাকার কোনো অধিকার নেই। আদালত মনে করিয়ে দেয়, এর আগেও অন্য একটি মামলায় আদালত পর্যবেক্ষণ করেছিল যে, ব্যক্তিগত মালিকানাধীন সম্পত্তিতে উপাসনা বা প্রার্থনা করার জন্য সরকারের পূর্বানুমতির কোনো প্রয়োজন নেই।
এই বিধিনিষেধকে চ্যালেঞ্জ করে মুনাজির খান নামে এক ব্যক্তি হাইকোর্টে পিটিশন দায়ের করেছিলেন। তিনি তাঁর আবেদনে উত্তরপ্রদেশ সরকার, সম্বলের জেলাশাসক ও পুলিশ সুপারকে পক্ষভুক্ত করেন। শনিবারের শুনানিতে রাজ্য সরকারের কৌঁসুলি এই বিষয়ে জবাব দেওয়ার জন্য আদালতের কাছে সময় চেয়েছেন।
অন্যদিকে, নামাজ পড়ার স্থানটি যে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, তা প্রমাণ করার জন্য আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় নথি ও ছবি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। মামলাটি আগামী ১৬ মার্চ পুনরায় শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে সম্বল ও এর সংলগ্ন মসজিদ চত্বরের জমি নিয়ে আইনি ও সামাজিক স্তরে উত্তজনা ছিল। এই আবহেই আদালতের এই নির্দেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
