ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কয়েক সপ্তাহের ক্রমাগত হামলায় ইরানের নেতৃত্ব কাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি বলেন, ওয়াশিংটন তেহরানের সাথে আলোচনা করতে চাইলেও সেখানে বর্তমানে “কথা বলার মতো কেউ নেই।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন অতীত। তিনি বলেন, “তাদের রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে, তাদের নেতারা কেউ নেই। এখন সেখানে আর কেউ নেতা হতে চাইছে না এবং সত্যি বলতে—আমরা বিষয়টি এভাবেই পছন্দ করছি।” তিনি বিশেষ করে ইরানের নৌবাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে জানান, গত দুই দিনে ইরানের প্রায় ৫৮টি জাহাজ সাগরের তলদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও যাদের শক্তিশালী নৌবাহিনী ছিল, আজ তাদের অস্তিত্ব নেই বললেই চলে।
সমালোচকদের আপত্তি সত্ত্বেও ট্রাম্প পুনরায় দাবি করেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তাঁর মতে, “যদি তাদের কাছে এই অস্ত্র থাকে, তবে তারা তা ব্যবহার করবেই।” যদিও বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ মনে করেন, যুদ্ধের এই কারণটি তথ্যগতভাবে যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। বক্তব্য চলাকালীন ট্রাম্প জানান, মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ বর্তমানে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে অবস্থান করছেন এবং যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই যৌথ সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ১,৩০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং শীর্ষ নেতা আলী লারিজানি রয়েছেন। তবে সবচেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা হিসেবে উঠে এসেছে একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় অন্তত ১৫০ জন শিশুর মৃত্যু। এই ভয়াবহ হামলার প্রতিবাদে ইরানও থেমে নেই। তারা ইসরায়েল এবং এই অঞ্চলে মার্কিন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
