ককরোচ জনতা পার্টির পাশে আন্না হাজারে

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: প্রধান বিচারপতির মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) বিতর্ক এবার এক নতুন মোড় নিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তোলা এই ডিজিটাল ও ব্যঙ্গাত্মক যুব আন্দোলনের পাশে দাঁড়ালেন দেশের প্রবীণ সমাজকর্মী তথা লোকপাল আন্দোলনের পুরোধা আন্না হাজারে। রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, দেশের নীতি নির্ধারণ ও জনস্বার্থমূলক আলোচনায় যুবসমাজের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে অবহেলা বা খারিজ না করে বরং উৎসাহ দেওয়া উচিত।

আন্না হাজারে স্বীকার করেন, একটি প্ল্যাটফর্ম বা দলের নাম ‘ককরোচ’ বা আরশোলা হওয়াটা হয়তো সাধারণ দৃষ্টিতে উপযুক্ত নয়। কিন্তু এই আন্দোলনের পেছনের বৃহত্তর বার্তাটি দেশের তরুণ প্রজন্মের পুঞ্জীভূত হতাশারই প্রতিফলন। মহারাষ্ট্রের রালেগাঁও সিদ্ধিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “যদিও ‘জুরাল’ (মারাঠিতে আরশোলা বা ককরোচ) নামটি একদমই উপযুক্ত নয়, তাও দেশের বহু মানুষ আজ এই মঞ্চের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। আমাদের মূলত এটা বোঝা দরকার যে, কেন এই মঞ্চের নাম ‘জুরাল’ রাখা হলো? এর পেছনের আসল উদ্দেশ্যটা কী?”

তাঁর কথায়, “যুবশক্তিই হলো আসলে রাষ্ট্রশক্তি। যখন এই যুবসমাজ দেশের জন্য এককাট্টা হয়ে কথা বলে, তখন সরকারের উচিত তাদের কণ্ঠরোধ বা উপেক্ষা না করে বরং তাদের উৎসাহিত করা।” দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে একসময় দেশ কাঁপানো এই বর্ষীয়ান নেতা মনে করেন, দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয়গুলিতে তরুণ প্রজন্মের এই ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও অংশগ্রহণ ভারতের গণতন্ত্রের জন্য একটি অত্যন্ত ইতিবাচক লক্ষণ।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত একটি শুনানির সময় অনলাইন অ্যাক্টিভিজমের সাথে যুক্ত বেকার যুবকদের ‘ককরোচ’ বা আরশোলার সাথে তুলনা করেছিলেন। সেই মন্তব্যেরই তীব্র প্রতিবাদ ও ব্যঙ্গ হিসেবে ইন্টারনেটে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র জন্ম হয়। সম্প্রতি এই প্ল্যাটফর্মের এক্স অ্যাকাউন্ট ভারতে ব্লক করা এবং সুপ্রিম কোর্টে এ সংক্রান্ত মামলা চলার মাঝেই এবার আন্না হাজারের এই মন্তব্য আন্দোলনকারীদের বাড়তি অক্সিজেন জোগাল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!