ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ মানেই নাগরিকত্ব হারানো নয়: SIR মামলায় বলল সুপ্রিম কোর্ট

(Supreme Court of India || File Photo)

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ভোটার তালিকা সংশোধন বা তৈরির সময় নির্বাচন কমিশন কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্বের বিষয়টি খতিয়ে দেখতেই পারে। তবে এই তদন্তের পরিধি অত্যন্ত সীমিত— কেবলমাত্র ভোটার তালিকায় নাম রাখা বা বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্যেই এই ক্ষমতা ব্যবহার করা যাবে। বুধবার এক রায়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করল সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে কোনও ব্যক্তির নাম বাদ পড়ার অর্থ এই নয় যে তিনি দেশের নাগরিকত্ব হারিয়েছেন।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের প্রশ্নটি একটি সঠিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার আহ্বান জানিয়েছে। আদালত তার রায়ে উল্লেখ করে, “যদি কোনও নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় না থাকে, তার মানে এই নয় যে তিনি নিজের নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন; বরং এটি ভোটার তালিকা যাচাইকরণের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব অক্ষমতা বা ব্যর্থতাকেই নির্দেশ করে।” আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়াকে কোনওভাবেই ‘তিনি ভারতের নাগরিক নন’ এমন ঘোষণা হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এটি কেবল এটাই প্রমাণ করে, নির্বাচনী উদ্দেশ্যে যে সমস্ত সংবিধিবদ্ধ শর্তাবলী প্রয়োজন, তা পূরণের ক্ষেত্রে কমিশন সন্তুষ্ট হতে পারেনি। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কেবল ভোটদানের অধিকার থেকে সাময়িকভাবে বঞ্চিত হতে পারেন। কিন্তু তাঁর নাগরিকত্বের অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না।

সুপ্রিম কোর্ট মুক্ত ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া পরিচালনা করার ক্ষমতাকে বহাল রেখেছে। আদালত জানায়, অবাধ নির্বাচন কেবল ভোটগ্রহণের যান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে না, তার জন্য নির্ভুল ভোটার তালিকাও সমান জরুরি।

তবে এই ক্ষমতার অপব্যবহার রুখতে আদালত বেশ কয়েকটি কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে। নির্দেশে বলা হয়েছে, যার নাম ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকায় রয়েছে, তদন্তের সময় প্রাথমিক সুবিধা বা ‘প্রিজাম্পশন’ তাঁর পক্ষেই থাকবে। নির্বাচন কমিশনের এই পুরো বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়াটি (SIR) আদালতের বিচারবিভাগীয় পর্যালোচনার আওতাধীন থাকবে। ফলে কমিশনকে সম্পূর্ণ আইন মেনে এবং পদ্ধতিগত স্বচ্ছতা বজায় রেখেই কাজ করতে হবে। ব্যক্তির পেশ করা নথিপত্র যদি নির্ভরযোগ্য না হয় বা সন্দেহ তৈরি করে, তবে কমিশন আইন অনুযায়ী তাঁর নাম নথিভুক্ত করতে অস্বীকার করতে পারে বা নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের এই মূল্যায়ন মূলত প্রাথমিক এবং কেবলমাত্র নির্বাচনী প্রয়োজনের প্রেক্ষিতেই প্রযোজ্য। নাগরিকত্বের প্রশ্নে কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে কোনওভাবেই ‘চূড়ান্ত’ বলে গণ্য করা যাবে না।

যদি কমিশন কোনও ব্যক্তির সংবিধিবদ্ধ তথ্যে সন্তুষ্ট না হতে পারে, তবে কমিশনের দায়িত্ব হবে ওই ব্যক্তির বিষয়টি আইন অনুযায়ী চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য কেন্দ্র সরকারের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো। নাগরিকত্ব আইন (Citizenship Act)-এর অধীনে গঠিত সেই উপযুক্ত কর্তৃপক্ষই নাগরিকত্বের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আইনি এক্তিয়ার রাখে। ফলে, কমিশনের নেওয়া যে কোনো পদক্ষেপ বা নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত ওই মূল কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত রায়ের ওপরই নির্ভরশীল থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!