ডি ডি ডেস্ক: অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে ‘হেট স্পিচ’ (ঘৃণা ভাষণ)-এর অভিযোগে এফআইআর দায়ের করার দাবিতে দায়ের হওয়া একটি মামলায় পুনর্বিবেচনা আবেদনের প্রেক্ষিতে দিল্লি পুলিশ এবং অসমের মুখ্যমন্ত্রীর জবাব তলব করল দিল্লির একটি আদালত। প্রখ্যাত সমাজকর্মী হর্ষ মন্দিরের দায়ের করা এই আবেদনের ভিত্তিতে মঙ্গলবার অতিরিক্ত দায়রা বিচারক সোনু অগ্নিহোত্রী সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে এই আইনি নোটিশ জারি করেছেন। এর আগে শর্মার বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিতে অস্বীকার করেছিল একটি নিম্ন আদালত। সেই নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দিল্লির আদালতের দ্বারস্থ হন হর্ষ মন্দির।
মামলাকারীর অভিযোগ অনুযায়ী, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এমন কিছু মন্তব্য করেছেন যা সমাজে শত্রুতা বৃদ্ধি এবং জনমনে বিভ্রান্তি বা অশান্তি ছড়াতে প্ররোচনা দেয়। মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছিলেন যেন তারা “মিঞাদের সমস্যায় ফেলে বা উত্যক্ত করে” এবং তাদের যেন কাজের জন্য কম মজুরি দেওয়া হয়। একই সাথে, রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার সময় নির্বাচনী তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ মিঞা ভোটারের নাম বাদ দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন তিনি। উল্লেখ্য, ‘মিঞা’ শব্দটি সাধারণত অসমে বাংলাভাষী মুসলমানদের প্রতি একটি অবমাননাকর শব্দ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
উল্লেখ্য, এর আগে, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফার্স্ট ক্লাস ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS)-এর ১৭৫(৩) ধারার অধীনে হর্ষ মন্দিরের এই আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছিলেন। নিম্ন আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, দিল্লির আদালতের এই বিষয়ে বিচার করার মতো কোনও ভৌগোলিক এক্তিয়ার নেই। তাছাড়া, অসমের মুখ্যমন্ত্রীর ওই মন্তব্যের কারণে দিল্লির আদালতের এক্তিয়ারভুক্ত এলাকায় কোনও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট বা উস্কানি ছড়ানোর মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ মেলেনি।
এদিন দায়রা আদালতে পুনর্বিবেচনা শুনানির সময় মামলাকারীর আইনজীবী যুক্তি দেন, কেবল ঘটনাস্থল বা ভৌগোলিক অবস্থানের দোহাই দিয়ে নিম্ন আদালতের এই আর্জি খারিজ করা একেবারেই ভুল ছিল। আইনজীবী ব্যাখ্যা করেন, বিএনএসএস-এর ১৭৩(১) ধারা অনুযায়ী, যেকোনো ব্যক্তি দেশের যেকোনো থানায় একটি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ দায়ের করতে পারেন, অপরাধটি যেখানেই ঘটুক না কেন। আইনি পরিভাষায় একে ‘জিরো এফআইআর’ বলা হয়। নিজেদের যুক্তির সপক্ষে আবেদনকারী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (MHA) পক্ষ থেকে ‘জিরো এফআইআর’ এবং অনলাইন এফআইআর সংক্রান্ত জারি করা অফিসিয়াল নির্দেশিকা ও গাইডলাইন আদালতের সামনে পেশ করেন। এই সমস্ত আইনি যুক্তি শোনার পর, অতিরিক্ত দায়রা বিচারকের আদালত বিপক্ষ ও দিল্লি পুলিশকে আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। এই মামলার পরবর্তী শুনানির রয়েছে আগামী ১৫ জুলাই।
