ডি ডি ডেস্ক: সিএমআরএল এবং এক্সালজিক সলিউশনস-এর মধ্যকার বিতর্কিত আর্থিক লেনদেন মামলার তদন্তে বুধবার সকালে সিপিপিআই(এম)-এর প্রবীণ নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের তিরুঅনন্তপুরমের বাসভবনে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নের কন্যা বীণা বিজয়নের মালিকানাধীন আইটি সংস্থা ‘এক্সালজিক সলিউশনস’-কে কেন্দ্র করে চলা তদন্তে ইডি-র এই পদক্ষেপকে এক বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে ইডি-র এই তল্লাশি অভিযানকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যে রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। এই তল্লাশিকে কেন্দ্র করে শাসক দল ‘লেফট ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট’ কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই সিপিপিআই(এম) পলিটব্যুরো সদস্য তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারকে টার্গেট করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, কেরল হাইকোর্ট এই আর্থিক তছরুপ মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থাকে তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার ঠিক এক দিন পরেই এই অভিযান চালানো হলো। বুধবার ভোরে ইডি আধিকারিকদের একটি দল তিরুবনন্তপুরমের বেকারি জাংশনের কাছে বিজয়নের ভাড়া বাড়িতে পৌঁছায়। এই বাড়িতেই বর্তমানে কন্য বীণা বিজয়নও বসবাস করেন।
তদন্তকারীরা জানিয়েছে, বীণা বিজয়নকে ইতিপূর্বেই এই মামলায় জেরা করা হলেও, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। তবে আগামী দিনে তদন্তের স্বার্থে তাঁর বয়ানও রেকর্ড করা হবে।
কেবল বিজয়নের বাসভবনই নয়, বুধবার সকাল থেকে কেরলজুড়ে একযোগে আরও প্রায় ১০টি ঠিকানায় সমন্বিত তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে ইডি। এই তালিকায় রয়েছে- সিএমআরএল দফতর, ‘কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড’-এর বিভিন্ন অফিস। সিএমআরএল কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর শশীধরন কার্থার ব্যক্তিগত ও পেশাগত বাসভূমি। সিপিপিআই(এম) বিধায়ক, রাজ্যের গণপূর্ত মন্ত্রী তথা বীণা বিজয়নের স্বামী পি এ মহম্মদ রিয়াসের বাসভবনেও যান তদন্তকারীরা। অভিযান চলাকালীন গোয়েন্দারা মূলত সিএমআরএল কর্তৃক এক্সালজিক সলিউশনস-কে দেওয়া বিভিন্ন বিতর্কিত পেমেন্টের আর্থিক রেকর্ড, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং সমস্ত ট্রানজ্যাকশন নথি অত্যন্ত গভীরভাবে স্ক্রুটিনি বা পরীক্ষা করেছেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবারই কেরল হাইকোর্ট সিএমআরএল এবং তার বেশ কয়েকজন শীর্ষ আধিকারিকের দায়ের করা একটি পিটিশন খারিজ করে দেয়। ওই আবেদনে ইডি-র এই তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ দাবি করা হয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্ট স্পষ্ট জানায়, প্রথম দৃষ্টে এই লেনদেনের পেছনে অর্থ পাচার বা মানি লন্ডারিং-এর পর্যাপ্ত ইঙ্গিত বা তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করে আদালত। আর এই রায়ের পরেই বুধবার ভোরের এই সাঁড়াশি অভিযানের পথ প্রশস্ত হয়।
