বেজিংয়ে পার্ক সামলাচ্ছে ৭২ ‘রোবট কর্মী’, মশা তাড়ানো থেকে টহলদারি— সবেতেই সিদ্ধহস্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: প্রখর গ্রীষ্মের দাবদাহের মধ্যেই বেজিংয়ের পার্কগুলিতে পুরোদমে কাজ শুরু করেছে ৭২টি বিশেষ ‘রোবট কর্মী’। পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিরাপত্তা টহল, পর্যটকদের গাইড করা থেকে শুরু করে উপদ্রবকারী মশা নিধন এবং জলজ আগাছা পরিষ্কার—সব ধরনের কাজই এখন সাবলীলভাবে সম্পন্ন করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত এই রোবটগুলি। চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘গ্লোবাল টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শহরের ১৪টি পুরসভা উদ্যানে এই বিশেষ পরিষেবা চালু করা হয়েছে।

বিশ্বখ্যাত ‘সামার প্যালেস’-এ মোতায়েন করা হয়েছে অত্যাধুনিক লিডার এবং বিশেষ সেন্সরযুক্ত সাফাই রোবট। সাফাই কর্মীরা একটি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে এর কাজ করার এলাকা ও মোড নির্ধারণ করে দেওয়ার পর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাফাই কাজ শুরু করে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই রোবটগুলি ময়লা আবর্জনা কুড়ানো, জল ছেটানো এবং রাস্তার ধার ঘেঁষে নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করার কাজ করে। ময়লার পরিমাণ অনুযায়ী এটি নিজের কাজের তীব্রতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়িয়ে বা কমিয়ে নিতে পারে। এছাড়া পথচারী বা কোনো যানবাহন সামনে এলে তা এড়িয়ে চলার প্রযুক্তি এতে রয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার্থে পার্কে নামানো হয়েছে ‘রোবটিক ট্যুর গাইড’। নির্ধারিত পথ ধরে হেঁটে এটি দর্শনার্থীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয় এবং ভিড় সামলাতে বা শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশ জারি করে।

ইউয়ুয়ানতান পার্কে (Yuyuantan Park) বর্তমানে ১১টি রোবট কাজ করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে নজর কেড়েছে ১.৫ মিটার (প্রায় ৪.৯ ফুট) উচ্চতার একটি নিরাপত্তা টহলদার রোবট। এটিতে ১০টিরও বেশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল, রাডার এবং হাই-ডেফিনিশন ক্যামেরা যুক্ত রয়েছে। পার্কে কেউ ধূমপান করলে এটি সঙ্গে সঙ্গে তা শনাক্ত করে এবং রেকর্ড করা কণ্ঠস্বরে সতর্কবার্তা দেয়। অন্যদিকে, জিজুয়ান পার্কে (Zizhuyuan Park) মোতায়েন করা হয়েছে মশা ধরার বিশেষ রোবট। এটি মানুষের নিঃশ্বাসের মতো কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2) তৈরি করে মশা ও অন্যান্য কীটপতঙ্গকে নিজের দিকে আকৃষ্ট করে এবং ধ্বংস করে। কেবল ডাঙায় নয়, পার্কের জলাশয় পরিষ্কারের জন্যও নামানো হয়েছে ওয়াটার-উইড রিমুভাল রোবট। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা দূরনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে জলের ভেতরের আগাছা কেটে সংগ্রহ করে এবং জল ছেঁকে অন্য জায়গায় ফেলে দিয়ে আসে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ইউয়ুয়ানতান পার্কে ‘রোবট + ল্যান্ডস্কেপিং’ পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে এই উদ্যোগের সূচনা হয়েছিল। বিগত দুই বছরে ১৮টি সংস্থার তৈরি ২৩টি রোবোটিক সরঞ্জামের ফিল্ড ট্রায়াল চালানো হয়। ট্রায়ালে সফল প্রযুক্তিগুলিকেই এখন শহরের অন্যান্য পার্কে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে সমস্ত পার্কের রোবট থেকে সংগৃহীত ডেটা এক জায়গায় এনে মনিটরিং ব্যবস্থা আরও উন্নত করা হবে এবং শহরের ল্যান্ডস্কেপিং ও পার্ক পরিচালনায় রোবোটিকসের ব্যবহার আরও সম্প্রসারিত করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!