‘শীঘ্রই’ খুলবে হরমুজ, ‘হয় চুক্তি, না হয় ভয়াবহ আক্রমণ’: ইরানকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: চলমান আলোচনার মধ্যেই ইরানকে কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, কাতার ও ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা চলায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী “খুব শীঘ্রই” পুনরায় খুলে দেওয়া হবে। তবে তেহরান যদি কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায়, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের ওপর ইতিহাসের অন্যতম মারাত্মক সামরিক হামলা চালাবে বলে স্পষ্ট হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি।
“হয় চুক্তি, না হয় ভয়াবহ আক্রমণ”
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্ববৃহৎ সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ইরানি কর্মকর্তারা অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে আলোচনার অনুরোধ জানান। ট্রাম্প বলেন, “আমরা একটি বিরাট আক্রমণের দিকে যাচ্ছিলাম—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যা সবচেয়ে বড় হতো। ঠিক তখনই তারা আমাকে ফোন করে অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে বলে, ‘অনুগ্রহ করে আমরা কি আলোচনা করতে পারি?’ আমি রাজি হয়েছি। তবে তারা যদি ফের আলোচনা থেকে সরে আসে, তবে তাদের অত্যন্ত কড়া মাশুল দিতে হবে। ইরানের হাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া যাবে না, বিষয়টি খুবই পরিষ্কার।”
আমেরিকা এবং ইরানের প্রতিনিধি দলের মধ্যে মঙ্গলবার দিনভর ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প জানান, চুক্তি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং খুচরা জ্বালানির দাম লিটার প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। পরে ক্যালিফোর্নিয়ায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি যোগ করেন, “আমরা খুব ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছি। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত ফলাফল জানা যাবে।”
৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মধ্যবর্তী চুক্তির সম্ভাবনা
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ (Axios)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওমান একটি মধ্যবর্তী চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। বুধবরের মধ্যেই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনো ঘোষণা আসতে পারে। এর আগে মঙ্গলবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, আন্তর্জাতিক পানিপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের বিষয়ে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা এখনও চূড়ান্ত হয়নি, তবে খুব দ্রুতই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সংঘাতের পটভূমি
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযানের পর থেকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক সংঘাতের সূচনা হয়। এর জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পরবর্তীতে গত এপ্রিল মাসে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং জুন মাসে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তবে গত মাসে সেই চুক্তি ভেস্তে গেলে দুই দেশের মধ্যে ফের দুই সপ্তাহ ধরে তীব্র হামলা ও পাল্টাহামলা চলে। অবশেষে সংঘাত সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে বর্তমানে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছে।
