মুর্শিদাবাদে ভোটার তালিকায় ‘বিবেচনাধীন’ ৭ লাখ নাম: দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি সিপিএমের
নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার পরও মুর্শিদাবাদ জেলায় বহু ভোটারের নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’ অবস্থায় রয়েছে। পাশাপাশি বহু মানুষের ভাগ্য ট্রাইবুনালে ঝুলে থাকায় তাঁদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগ বাড়ছে বলে অভিযোগ তুলেছে সিপিএম। এই পরিস্থিতিতে ‘বিবেচনাধীন’ মামলাগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ট্রাইবুনালে আটকে থাকা বিষয়গুলির দ্রুত সমাধানের দাবিতে বুধবার বহরমপুরে দলের জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে সিপিএম নেতৃত্ব। সাংবাদিক বৈঠকের পর সিপিএমের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা এবং ডোমকলের বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান জেলাশাসক রাজর্ষি অর্জুনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা কলকাতা হাই কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের কথা উল্লেখ করে আদালতের নির্দেশিকা অনুযায়ী দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন জানান।
প্রসঙ্গত, ডোমকলের সিপিএম কর্মী সিরাজুল ইসলাম ভোটার তালিকায় নিজের নাম দীর্ঘদিন ‘বিবেচনাধীন’ অবস্থায় থাকায় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন। সম্প্রতি আদালত জেলাশাসককে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে বলে দাবি সিপিএমের। এ বিষয়ে মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক রাজর্ষি অর্জুন বলেন, “আমরা এখনও আদালতের নির্দেশিকার কপি হাতে পাইনি। তবে শুনেছি, হাই কোর্ট এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। নির্দেশিকার কপি হাতে পাওয়ার পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।”
সিপিএমের জেলা সম্পাদক জামির মোল্লার দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়ার পর জেলার সাত লক্ষেরও বেশি মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে আরও উদ্বিগ্ন করে তোলা হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁদের নাম এখনও ‘বিবেচনাধীন’ রয়েছে অথবা যাঁদের মামলা ট্রাইবুনালে ঝুলে আছে, তাঁদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। জামির মোল্লা বলেন, “ডোমকলের আমাদের দলের কর্মী সিরাজুল ইসলাম হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, বিবেচনাধীন ভোটাররা আবেদন করবেন এবং জেলাশাসক দু’সপ্তাহের মধ্যে সেই আবেদন নিষ্পত্তি করবেন। আমরা জেলাশাসককে আদালতের নির্দেশ মেনে দ্রুত বিষয়টি সমাধানের আবেদন জানিয়েছি।”
ডোমকলের বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমানও একই দাবি তুলে বলেন, জেলার বিভিন্ন এলাকায় বহু ভোটারের নাম এখনও বিবেচনাধীন অবস্থায় রয়েছে, আবার অনেকের বিষয় ট্রাইবুনালে ঝুলে আছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সরকারি পরিষেবা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে তাঁর অভিযোগ। মুস্তাফিজুর রহমান জানান, শুধু ডোমকলের একটি গ্রামেই প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ জন ভোটারের নাম ‘বিবেচনাধীন’ অবস্থায় রয়েছে। এই কারণেই তাঁদের দলের কর্মী আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তিনি বলেন, “আমরা জেলাশাসকের কাছে হাই কোর্টের রায়ের বিষয়টি তুলে ধরেছি এবং দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছি। পাশাপাশি শুধু জোকায় নয়, মহকুমা স্তরেও ট্রাইবুনাল গঠনের দাবি জানিয়েছি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির কাছেও লিখিতভাবে আবেদন জানানো হবে।”
