রেল যোগাযোগ থেকে সেতু নির্মাণ: মুর্শিদাবাদের উন্নয়নে ১০ দফা দাবি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি সাংসদদের

(মুর্শিদাবাদের সাংসদ আবু তাহের খান। || নিজস্ব চিত্র)

নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর: রেল যোগাযোগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নামকরণ থেকে শুরু করে সেতু নির্মাণ ও বিএসএফের হয়রানি বন্ধ—সহ একাধিক দাবি নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিলেন মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ আবু তাহের খান। জেলার উন্নয়নে একগুচ্ছ জনকল্যাণমুখী দাবি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে দশ দফা দাবি পেশ করেছেন তিনি। বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে লেখা একটি চিঠিতে এলাকার সমস্যা সমাধান করে পরিকাঠামোগত উন্নয়নের দ্রুত আবেদন জানিয়েছেন মুর্শিদাবাদের সাংসদ।

সাংসদের চিঠি অনুযায়ী, কৃষ্ণনগর থেকে শুরু করে করিমপুর, জলঙ্গি, ডোমকল ও ইসলামপুর হয়ে ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদ শহর পর্যন্ত নতুন রেললাইন স্থাপন। এই দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়িত হলে জেলাজুড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি, সড়ক ও নদীপথে যাতায়াত সহজ করতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পাকা সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি। আবু তাহের বলেছেন, ডোমকল ও হরিহরপাড়ার সংযোগকারী স্বরুপপুর ঘাটে পাকা সেতু। ডোমকল এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নে বকশীপুর ঘাটে সেতু নির্মাণ। হাজারদুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে নবাব সিরাজউদ্দৌলার নামে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটানোর প্রস্তাব রেখেছেন তিনি। এছাড়াও, বহরমপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন পাঠ্যক্রম বিভাগ চালু করা এবং দূর-দূরান্ত থেকে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নতুন আবাসন (হোস্টেল) নির্মাণের অনুরোধ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নয়নে বহরমপুর মেডিকেল কলেজকে আরও আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ সুপার-স্পেশালিটি সুবিধাযুক্ত করার আর্জি জানিয়েছেন সাংসদ। এর পাশাপাশি ডোমকল ও লালবাগ মহকুমা হাসপাতালসহ করিমপুর, জলঙ্গি (সাদিখানদিয়াড়), রানীনগর (ইসলামপুর), ভগবানগোলা (ব্লক-২), হরিহরপাড়া ব্লক হাসপাতাল এবং নওদা ব্লকের আমতলা গ্রামীণ হাসপাতালে উন্নত ও সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সীমান্তবর্তী এই জেলার দুই প্রধান সমস্যা— কৃষি ও নদী ভাঙন নিয়েও বার্তা দিয়েছেন আবু তাহের খান। তিনি জানান, সীমান্ত এলাকায় চাষাবাদের কাজে যাওয়ার সময় বিএসএফ (BSF)-এর হাত থেকে কৃষকদের হয়রানি বন্ধ করতে রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। পেঁয়াজ ও অন্যান্য পচনশীল ফসলের ন্যায্য দাম পেতে পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ বা হিমঘর তৈরির দাবি জানানো হয়েছে। গঙ্গা ও পদ্মার করাল গ্রাসে জমি-ভিটেহারা পরিবারগুলির জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে। ‘জল জীবন মিশন’-এর অধীনে জেলার প্রতিটি ঘরে বিশুদ্ধ পানীয় জল পৌঁছানোর প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার আর্জি জানানো হয়েছে চিঠিতে। সাংসদ আবু তাহের খান আশা প্রকাশ করেছেন, মুর্শিদাবাদবাসীর বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা করে রাজ্য সরকার এই প্রস্তাবগুলি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে এবং দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!