আল-আকসায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘যৌথ ব্যবস্থা’র কথা ভাবছে ২০টি মুসলিম দেশ: তুর্কি বিদেশমন্ত্রী
ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক নীতি ও পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় প্রায় ২০টি মুসলিম দেশ ‘যৌথ ব্যবস্থা’ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করেছে। জর্ডানের রাজধানী আম্মানে আয়োজিত জেরুজালেম বিষয়ক এক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে বুধবার এ কথা জানিয়েছেন তুরস্কের বিদেশমন্ত্রী হাকান ফিদান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য আঞ্চলিক সংকট যেন অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের চলমান পরিস্থিতির ওপর থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর সরিয়ে না নেয়। সংবাদসংস্থা আনাদোলুর প্রশ্নের জবাবে ফিদান জানান, আম্মানের এই ঐতিহাসিক বৈঠকে প্রতিনিধিরা প্রধানত আল-আকসা মসজিদকে লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি পদক্ষেপগুলোর ওপরই মনোযোগ কেন্দ্রভূত করেছিলেন।
তুর্কি বিদেশমন্ত্রী বলেন, “আজ আমরা আম্মানে একটি অত্যন্ত ঐতিহাসিক বৈঠকে অংশ নিয়েছি। সেখানে গভীর মতামত বিনিময় হয়েছে। ইসলামিক বিশ্বের প্রতিনিধি দেশগুলো তাদের উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি সম্ভাব্য ব্যবহারিক, কূটনৈতিক ও অন্যান্য পদক্ষেপ নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছে।” তিনি উল্লেখ করেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাত, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার বৈশ্বিক প্রভাব বা আন্তর্জাতিক মনোযোগের সাময়িক পরিবর্তন সত্ত্বেও ফিলিস্তিন ইস্যু, আল-আকসা মসজিদ, গাজা এবং পশ্চিম তীর সম্পর্কিত আলোচনা কোনোভাবেই ঢাকা পড়েনি। ফিদানের মতে, “অন্য কোনো দিকে আমাদের মনোযোগ সরে গেলেই ইসরায়েল গাজা, আল-আকসা ও পশ্চিম তীরে নিজেদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ মনে করে।”
জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোর ঐতিহাসিক ও আইনি তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে জর্ডানের ভূমিকার কথা পুনর্ব্যক্ত করে ফিদান বলেন, তুরস্ক আল-আকসা মসজিদকে নিজেদের পবিত্র স্থান হিসেবেই গণ্য করে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, আমাদের সরকার ও জনগণ আল-আকসাকে নিজস্ব পবিত্র স্থান হিসেবে দেখে। এর ওপর যেকোনো আঘাতকে আমাদের জাতীয় মূল্যবোধের ওপর আঘাত হিসেবে গণ্য করা হয়।” আম্মানের বৈঠক থেকে তুরস্ক ও জর্ডান আল-আকসার সুরক্ষায় পারস্পরিক সংহতির স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে।
আম্মানের বৈঠকের পাশাপাশি সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর এবং পাকিস্তান—এই চার দেশের জোট ‘গ্রুপ অফ ফোর’-এর পঞ্চম মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে মিশর ও তুরস্কের ভূমিকা নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়। ইসরায়েলের অবস্থান সম্পর্কে ফিদান বলেন, “শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক আইন ও নিয়মকানুন না মানার প্রবণতাকে কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে আমরা কঠোর আলোচনা করেছি।” বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো সংশ্লিষ্ট দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের জানানো হবে এবং খুব শীঘ্রই এর প্রভাব দেখা যাবে বলে জানান তিনি। এছাড়া, লোহিত সাগরের অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার ঝুঁকি মোকাবিলায় চার দেশের যৌথ উদ্যোগের অংশ হিসেবে একটি রূপরেখা বা ‘আঞ্চলিক ভিশন ডকুমেন্ট’ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।
