ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনায় সায় নেই ইসরায়েলের! চরম চাপেও ‘খসড়া’ প্রত্যাখ্যান নেতানিয়াহুর
ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: গাজা ভূখণ্ডে হামাসের অস্ত্রসংবরণ ও নিরস্ত্রীকরণ ছাড়া সেনাবাহিনী সরাবে না ইসরায়েল— মার্কিন প্রশাসনের কাছ থেকে এমন আশ্বাস পাওয়ার পরও আমেরিকা-সমর্থিত গাজা শান্তি পরিকল্পনা মেনে নিতে অস্বীকার করলেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্র যে খসড়া পাঠিয়েছে তাতে ইসরায়েল সম্মতি দেয়নি।
বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল মনে করছে তারা হামাসের অস্ত্রসংবরণ এবং গাজার নিরস্ত্রীকরণ ঘটাতে সক্ষম হবে। নেতানিয়াহুর কথায়, “আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ওয়াশিংটন আমাদের একটি খসড়া পাঠিয়েছিল— আমরা তাতে সম্মতি দিইনি, এটি আমাদের খসড়া নয়। আমরা আমাদের মতামত ও সংশোধন পাঠিয়েছি।” উল্লেখ্য, গত সোমবার মার্কিন-সমর্থিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এর সঙ্গে বৈঠক করেন নেতানিয়াহু। সেখানে তাঁকে আশ্বাস দেওয়া হয়, হামাস সম্পূর্ণ অস্ত্রসংবরণ করার পরেই কেবল ইসরায়েলি সেনাকে গাজার বর্তমান অবস্থান থেকে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হবে।
আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ দল লিকুদ পার্টির প্রাথমিক ভোটাভুটির মাঝেই জোট সরকারের কট্টর ডানপন্থী শরিকদের তীব্র চাপের মুখে পড়েছেন নেতানিয়াহু। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ এবং সেটেলমেন্ট মন্ত্রী ওরিট স্ট্রুক এই পরিকল্পনার ওপর নতুন করে নিরাপত্তা ক্যাবিনেটে ভোটাভুটির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, বর্তমানে যে খসড়া নিয়ে কথা হচ্ছে তা পূর্বে আলোচনার সঙ্গে মিলছে না। যদিও এর আগে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন সংক্রান্ত এই প্রস্তাবে নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের অনুমোদন মিলেছিল। ইসরায়েলি থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘মোলাদ’-এর গবেষক তাল এলোভিচের মতে, নির্বাচনে প্রভাব ফেলতেই ডানপন্থী মন্ত্রীরা নেতানিয়াহুর ওপর এই বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছেন। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্রমবর্ধমান একাকীত্বের কারণে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা সম্পূর্ণ বাতিল করা ইসরায়েলের পক্ষে কার্যত অসম্ভব বলেই মনে করছেন তিনি।
আমেরিকান চাপের প্রভাবেই হোক বা কৌশলগত কারণেই হোক, গাজায় ইসরায়েলি সেনা অভিযানের নীতিতে বড় পরিবর্তনের খবর মিলেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হায়ারেৎজ-এর তথ্য অনুযায়ী, সেনা জওয়ানরা ‘সরাসরি বিপদে’ না পড়লে, গাজায় যেকোনো নতুন বিমান বা স্থল হামলার জন্য এখন আর কেবল আঞ্চলিক কমান্ডারের নির্দেশই যথেষ্ট নয়। এর জন্য সরাসরি সেনাপ্রধানের অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। তবে সেনার এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সব মিলিয়ে গাজা নীতি ও ট্রাম্পের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এক কঠিন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু।
