অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার আর মিথ্যাচার
বিশ্বজিৎ দত্ত
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার আর মিথ্যাচার একে অপরের পরিপূরক। খুব সহজ সরল একটা হিসাব যেটা বাংলার মানুষ করতে পারলেই এত সমস্যা হত না। এই পোস্টটা সেই অঙ্কের।
গত দু’দিনে একদল উঠেপড়ে লেগেছে এটাই প্রমাণ করার জন্য যে “৩০০০ টাকা আবার চাইতে হয়? নাইটি বিক্রি করেও তো এই টাকা মাসে কামিয়ে নেওয়া যায়। এর জন্য হাত পাতার কি আছে”। হ্যাঁ স্পেসিফিকলি “নাইটি”ই বেচার ই লেখা পেলাম অন্তত ১২ জনের পোস্টে। কারা তারা আর বুঝিয়ে না বললেও বুঝতেই পারছেন। তো কে কি করবেন তাদেরই ব্যাপার। আমিও ভাতার বিরুদ্ধে কিন্তু যে রাজ্যে কাজই নেই সেখানে…………। ওদিকে যাদের কাজ আছে তাদের তো “চুরি করে কাজ পেয়েছেন” বলে মানসিক চাপ দিয়ে হার্ট অ্যাটাক করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
যাকগে এবার অঙ্কটা। লক্ষ্মীর ভান্ডার স্কিম ২০২১ এর সেপ্টেম্বরে চালু হয়েছিল। অবশ্যই রাজনৈতিক ফায়দার জন্য। কিন্তু এই ভাতার ব্যাপারগুলোতে সেই সময়ের সরকার যতটা কাজ দেখিয়েছিল অতটা অন্য সব কিছুতে দেখালে হয়ত আর ক বছর থাকত। সেটা অবশ্য অন্য বিষয়। ভাতায় ফিরে আসি। ২০২১ এর রাজ্য বাজেটে প্রস্তাব আসার পর সেপ্টেম্বরে চালু হবার প্রধান কারণ “দুয়ারে সরকার” আউটরিচ প্রোগ্রাম চালিয়ে সবাইকে সাহায্য করা এবং লিস্ট ফাইনাল হলে চালু করা। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের আইডেন্টিফাই করা আর ৬০ পেরোলেই অটমেটিক্যালি বার্ধক্য ভাতায় ট্রান্সফার করা ইত্যাদি। ২.৪২ কোটি মহিলা শেষ অবধি পেয়েছিলেন ১৫০০ করে আর এসসি, এসটি হলে ১৭০০। অ্যাভারেজ ধরলে ৩৬৩০ কোটি টাকা মাসে শুধু একটা প্রকল্পে। এছাড়া ১৫ টা আরো প্রকল্প ছিল। সব চলত। এবং কেন্দ্রের টাকা ছাড়াই। এর থেকে বেশী লিখলে “তিনু” বলে দেবে আমায় ভক্তরা এসে।
এবার বর্তমান সরকার। যার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী প্রাক্তন সরকারের দল ছেড়েছেন ডিসেম্বর ২০২০ তে। তো প্রকল্পে কি ঘটেছে তা ওনার পক্ষে আর জানা সম্ভব হয়নি। কিভাবে সবটা বাস্তবায়িত হয়েছে সেটা যে উনি জানেন না তা তো এখন হাতে কলমে প্রমাণ করছেন। কিন্তু উনি ওটাও জানেন না যে অত টাকা প্রত্যেক মাসে কোথা থেকে এসেছে। তো না জেনেই আলটপকা প্রকল্প ঘোষণা ভোটে জেতার জন্য। নিয়ে ৩ মাসেই ভরাডুবি। সেন্ট্রাল থেকে ভোটে জেতার পর রাজ্যের ট্যাক্সের টাকা, যেটা নিয়ে মমতা ব্যানার্জী বহুবার বলেছেন যে সেন্ট্রাল রিলিজ করছে না, সেটা আল্টিমেটলি কিছুটা এসেছে। ৪২০০০ কোটি টাকা। বকেয়া আছে আরো। মমতা ব্যানার্জীর বয়ান অনুসারে বকেয়া ২ লক্ষ কোটি। তো ট্যাক্স তো জমা করাটাই মাস্ট সাধারণ মানুষের জন্য কিন্তু সেটা কেন স্টেটে আসছে না, এলেও কেন ৪২০০০ কোটি মোটে সেটা “নতুন সরকার”ই জানে।
এবার বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী দুম করে ১৫০০ কে ৩০০০ ঘোষণা করে দিলেন। গিমিক, জুমলা, না অজ্ঞতা কে জানে। প্রশ্ন করলে তো ওনার আগে ভক্ত আসে। তো যে প্রকল্পে ৩৬০০ কোটি মাসে খরচা হত শুধু, সেটা ডবল করলে ৭২০০ কোটি হয়। কোনো বাচ্চা কে কসতে দিলেও অঙ্কটা কসে দিত। তো যা টাকা এসেছে তাতে অন্য সব খাত বাদ দিলে যে কদিন চলত, সেই ক দিন ই চলল। তারপর যোগ্য অযোগ্য অঙ্ক শুরু হল। বাসের ফ্রী ও এই কদিনই চলত কারণ নিজেদের সরকারই তেলের দামের, গ্যাসের দামের সুন্দর অবস্থা করে রেখেছে। বিদ্যুত টা লাইনে আছে। অন্নপূর্ণা ভান্ডার, পোশাকি নাম “অন্নপূর্ণা যোজনা স্কিম”, ভোক্তা কমিয়ে ১.১ কোটি করেছে। কিন্তু রক্ষা তাতেও হবে না। টাকা লাগে।
স্টেট সরকারের ২ টো প্রকল্প চলছে বর্তমানে। একটা হকার উচ্ছেদ, ৩ মাস বয়স। আরেকটা মিড ডে মিল, ৪ দিন বয়স। ওখানেও ১.৬ কোটি স্টুডেন্ট যার মধ্যে ১.১ কোটি নাকি মিড ডে মিল খেত। ৪ দিনে সবার কাছে পৌঁছায়নি। ওখানে আগের গভমেন্ট দিত মাথাপিছু ৭.৫ টাকা। মানে ২১৫ কোটি মত প্রত্যেক মাসে। আর এখনকার সরকারকে দিতে হবে মাথাপিছু ১০ টাকা। ২৮৬ কোটি মত প্রত্যেক মাসে। এবার বেসরকারীকরন হয়েছে। টাকা না পেলে তারা ধার করে তো মিড ডে মিল দেবেন না। দেখা যাক।
এই রাজ্যে ২ মাসে ২৬ লাখ নাম বাদ গেছে। এবার অন্য রাজ্যের পরিসংখ্যান। মহারাস্ট্রে লাডকি বেহেন যোজনা – ৯২ লাখ নাম বাদ। মধ্যপ্রদেশে লাডলি বহেন যোজনা – ২.১৮ লাখ নাম বাদ
দিল্লিতে মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা (পরে নাম চেঞ্জ করে দিল্লি লক্ষ্মী যোজনা) – লাস্ট ১ বছর ধরে বন্ধ।
আর হাতে রইল পেন্সিল। আর যা যা প্রতিশ্রুতি মনে পরছে বেকার যুবকদের জন্য মাসিক ৩,০০০ টাকা ভাতা, মাতৃ ও শিশু পরিচর্যার জন্য গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ২১,০০০ টাকা, পিএম-কিষাণ সম্মান নিধি প্রকল্পের অধীনে বার্ষিক ৯,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা, চাকরি ও সংরক্ষণ ক্ষেত্রে বর্ধিত নিয়োগ অভিযানের পাশাপাশি সরকারি চাকরিতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ ইত্যাদি ইত্যাদি। আর কেন্দ্রীয় প্রকল্পের মধ্যে আয়ুষ্মান ভারত, যেটা তো……………।
তো সরকারের কথায় না নেচে নিজের ব্যবস্থা নিজে করে নিন। সরকারী প্রকল্পে আর সরকারী আইনে, দুটোতেই জুমলাই হবে। এই দলের গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে। কাল নিজেদের দলের লোককেই ডিম মেরেছে আর আজ কামড়ে দিয়েছে। বাকি আপনাদের হাতে।
(সামাজিক মাধ্যম থেকে সংগৃহীত। মতামত লেখকের নিজস্ব।)
