সম্প্রীতি নষ্ট করে লাভ কি?

টুম্পা পাল

খুলে নেওয়া হচ্ছে মসজিদের মাইক। কোনো একটি নির্দিষ্ট সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমকে ‘অস্বস্তিকর’ বলে যদি আজ বন্ধ বা সীমিত করার দাবি তোলা হয়, তবে কাল কিন্তু অন্য সমস্ত সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের ওপরও একই নিয়মে লাগাম টানতে হবে—এটাও সবাইকে মানতে হবে।

আইন এবং নাগরিক সুবিধা সবার জন্য সমান হওয়া উচিত। আজ যদি কোনো সংক্ষিপ্ত আওয়াজকে নিষিদ্ধ করা যায়, তবে অনুরূপভাবে—ঘণ্টার পর ঘণ্টা চলা রাজনৈতিক সভা, নির্বাচনী প্রচারের মাইকিং, গভীর রাত পর্যন্ত চলা বিভিন্ন উৎসবের (বিয়ে, অন্নপ্রাশন, জন্মদিন) ডিজে বক্স মেলা, বাণিজ্যিক প্রচার এবং সমস্ত সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকেও সমানভাবে বন্ধ বা সীমিত করতে হবে। যদি কোনো নিয়ম কার্যকর করতেই হয়, তবে তা যেন কোনো বাছবিচার না করে সমস্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের ওপর সমান ও নিরপেক্ষভাবে কার্যকর করা হয়। একটি বিষয়ে কড়াকড়ি আর অন্য দীর্ঘ কোলাহলগুলোকে ছাড় দেওয়া—এমন দ্বিচারিতা চলতে পারে না। নিয়ম হলে তা সবার জন্যই এক হতে হবে।

আমার মনে হয় শব্দের মাত্রা অতিক্রম না করলে তারা আজান দিতেই পারেন, ভোরে এবং সন্ধ্যার পর একটু শব্দের তীব্রতা কম করলেই হলো, যদি কেও সেটা না মানেন তাহলে ফাইনের ব্যবস্থা করতেই পারেন। সম্প্রীতি নষ্ট করে লাভ কি? ষোলো প্রহর, অষ্ট প্রহর কীর্তনে দিন রাত মাইক চালিয়ে মানুষকে হরিনাম শোনানো হয়। সেটাও কি তাহলে জোর করে? আমার বাড়ি মসজিদের কাছে, কোনোদিন আজানের শব্দে বিরক্ত বোধ করিনি বরং একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। জানি এই পোষ্টে অনেক নেগেটিভ কমেন্ট আসবে। তার পরেও জানি শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের সংখ্যা এখনো বেশি তাই ভালো কাজে মানুষ দল বাঁধে, এক হয়, সম্প্রীতির গান গায়। “মিলে সুর মেরা তুমহারা, তো সুর বানে হামারা।”

(সামাজিক মাধ্যম থেকে সংগৃহীত। মতামত লেখকের নিজস্ব।)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!