ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনকে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ করতে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির ‘ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট’ (IIIDEM)-এ কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের নিয়ে এক বিশেষ প্রশিক্ষণ ও পর্যালোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এদিন মোট ১,৪৪৪ জন আধিকারিককে নির্বাচনী ময়দানে নামার চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।
আসন্ন নির্বাচনে মোট ৮২৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে নজরদারি চালাতে তিন ধরনের পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। সাধারণ পর্যবেক্ষক (General Observers) ৭১৪ জন। পুলিশ পর্যবেক্ষক (Police Observers) ২৩৩ জন। ব্যয় পর্যবেক্ষক (Expenditure Observers) ৪৯৭ জন।
বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনারা কমিশনের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করবেন। আপনাদের উপস্থিতিই নির্বাচনী প্রশাসনকে বাড়তি শক্তি জোগাবে।” তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, কোনো অবস্থাতেই স্বচ্ছতার প্রশ্নে আপস করা যাবে না। নির্বাচন কমিশনার ডঃ বিবেক জোশী নির্দেশ দেন যে, ভোটারদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে সময়মতো ‘ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ’ (VIS) বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।
আধিকারিকদের নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে- পর্যবেক্ষকদের সমস্ত নির্বাচনী আইন ও বিধি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী এবং সাধারণ ভোটারদের জন্য পর্যবেক্ষকদের সবসময় সুলভ হতে হবে। তাঁদের অভিযোগগুলো যেন দ্রুত এবং সঠিক সময়ে সমাধান করা হয়। ভোটকেন্দ্রগুলোতে পানীয় জল, বিদ্যুত এবং প্রতিবন্ধীদের জন্য র্যাম্পের মতো ‘Assured Minimum Facilities’ বা সুনিশ্চিত ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা তদারকি করতে হবে।
এদিন আধিকারিকদের বিভিন্ন আইটি অ্যাপ্লিকেশন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। এছাড়া সংবাদমাধ্যম সংক্রান্ত বিষয় এবং ভোটার তালিকা তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই প্রস্তুতির পর আগামী মার্চ মাসেই পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করতে পারে কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে নির্বাচন যে একাধিক দফায় হতে পারে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক মোতায়েন থাকতে পারে, সেই ইঙ্গিতও মিলেছে কমিশনের তৎপরতায়।
