ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে কোনো জোট নয়, বরং ‘একলা চলো’ নীতিতেই আস্থা রাখল ভারতের জাতীয় কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারক কমিটি অর্থাৎ কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই এককভাবে প্রার্থী দেবে শতাব্দীপ্রাচীন এই দল। এর ফলে ২০১৬ সাল থেকে চলে আসা বাম-কংগ্রেস জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া জল্পনার অবসান ঘটল।
কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং দলের সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল। পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রতিনিধিত্ব করেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, বর্ষীয়ান নেতা ও প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী এবং মালদহ দক্ষিণের সাংসদ ইশা খান চৌধুরী। বৈঠক শেষে এআইসিসি (AICC)-র পশ্চিমবঙ্গ ইনচার্জ গোলাম আহমেদ মীর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন, তৃণমূল কংগ্রেস বা সিপিআই(এম) নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট—কারও সাথেই কোনো প্রকার আসন সমঝোতায় যাবে না কংগ্রেস।
গোলাম আহমেদ মীর বলেন, “বিগত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দেখেছি যে, জোট বা আসন সমঝোতার ফলে নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং দলের সাংগঠনিক শক্তি অনেকটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই রাজ্য নেতৃত্বের সাথে বিস্তারিত আলোচনার পর আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, এবার আমরা একক শক্তিতে লড়ব।”
রাজ্য রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে বেশ কিছু কারণ কাজ করছে- জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের অংশ হলেও রাজ্যে তৃণমূলের সাথে আসন রফায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিগত নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে, কংগ্রেসের ভোট বামেদের দিকে গেলেও বামেদের ভোট অনেক ক্ষেত্রে কংগ্রেসের প্রার্থীরা পাননি। এককভাবে লড়লে দলের নিজস্ব ভোটব্যাঙ্ক এবং বুথ স্তরের সংগঠনকে চাঙ্গা করার সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছে হাইকমান্ড।
বাম-কংগ্রেস জোটের অন্যতম কারিগর হিসেবে পরিচিত অধীর রঞ্জন চৌধুরী বরাবরই জোটের পক্ষে সওয়াল করে এসেছেন। তবে হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের পর তিনি কিছুটা সংযত কণ্ঠে বলেন, “দল যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা সেই পথেই হাঁটব। হাইকমান্ডের নির্দেশ শিরোধার্য।” বিশ্লেষকদের মতে, সীতারাম ইয়েচুরির প্রয়াণ এবং প্রদেশ কংগ্রেসে অধীর চৌধুরীর প্রভাব কিছুটা কমায় জোটের পক্ষে জোরালো সওয়াল করার মতো নেতার অভাব দুই শিবিরেই দেখা দিয়েছিল। এর ফলে ২০২৬-এর লড়াই এখন মূলত চতুর্মুখী (তৃণমূল, বিজেপি, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস) হওয়ার দিকেই এগোচ্ছে।
