TOP NEWS

ঝাড়খণ্ডে হাতির তাণ্ডব: এক শিশুসহ একই পরিবারের ৬ জনের মৃত্যু, ১০ দিনে প্রাণ গেল ১১ জনের

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ঝাড়খণ্ডের হাজারিবাগ জেলায় বুনো হাতির দল ঢুকে পড়ার ফলে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে চুরচু ব্লকের গোন্দওয়ার গ্রামে একটি হাতির পালের হামলায় এক শিশুসহ মোট ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতরা হলেন- সুমন কুমারী (২৬), ধনেশ্বর রাম (৫২), সূরজ রাম (৫০), সবিতা দেবী (২৫), অনুরাগ রাম (১ বছর) ও সঞ্জনা কুমারী (৩ বছর)। বন দপ্তরের মতে, এই একই হাতির দলটি গত ১০ দিনে বোকারো এবং হাজারিবাগ মিলিয়ে মোট ১১ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে।

জানা গিয়েছে, অঙ্গো থানা এলাকার রামগড়-হাজারিবাগ সীমানায় অবস্থিত গোন্দওয়ার গ্রামে রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ৫টি হাতির একটি দল ঢুকে পড়ে। ধান মজুত রাখা একটি বাড়িতে হানা দেয় হাতিগুলো। শব্দ শুনে গ্রামবাসীরা ঘর থেকে বেরিয়ে এলে তারা সরাসরি হাতির সামনে পড়ে যান। বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (DFO – পূর্ব বিভাগ) বিকাশ কুমার উজ্জ্বল জানিয়েছেন, এই হাতিগুলো অত্যন্ত “খামখেয়ালী এবং আক্রমণাত্মক” আচরণ করছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি বোকারোর বার্কিপুনু গ্রামে একই পরিবারের তিন প্রবীণ সদস্যকে পিষে মারে এই দলটি। এরপর ৭ ফেব্রুয়ারি গঙ্গাপুর গ্রামে আরও দুজনের মৃত্যু হয়। গত ১০ দিনে জেলাজুড়ে হাতির হানায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১১।

বন দপ্তরের প্রাথমিক অনুমান, হাতিগুলো ‘মত্ত’ (Musth) অবস্থায় থাকতে পারে। এটি এমন এক সময় যখন পুরুষ হাতির শরীরে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে তারা অত্যন্ত হিংস্র হয়ে ওঠে। তবে সঠিক কারণ জানতে একটি বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। ডিএফও জানিয়েছেন, “হাতিগুলো খুব দ্রুত এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াত করছে। তাদের আচরণের কারণ খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

বর্তমানে বাঁকুড়া থেকে আসা একটি বিশেষ দল রামগড়ে অবস্থান করছে এবং হাতির গতিবিধির ওপর নজর রাখছে। প্রয়োজনে জামশেদপুরে থাকা ‘বান্তারা’ (Vantara) টিমের সাহায্য নেওয়া হতে পারে। তবে এখনই হাতিগুলোকে ঘুমপাড়ানি গুলি ছোড়া বা স্থানান্তরের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

বন দপ্তরের পক্ষ থেকে বর্তমান বেশিকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেগুলি হল- গ্রামবাসীদের রাতে ঘর থেকে বের না হওয়ার জন্য বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। বন্যপ্রাণীর ঝুঁকি কমাতে ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা বা অনুরূপ বিধিনিষেধ জারির জন্য জেলা প্রশাসনের সাহায্য চাওয়া হয়েছে। মৃতদের পরিবারকে শেষকৃত্যের জন্য প্রাথমিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পূর্ণ ক্ষতিপূরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বন দপ্তরের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন কোনোভাবেই হাতির সামনে না যান বা হাতি তাড়ানোর চেষ্টা না করেন। হাতি এলাকায় থাকাকালীন নিরাপদ আশ্রয়ে থাকাই জীবন বাঁচানোর একমাত্র পথ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!