গাজার পশ্চিম তীরে ‘ব্যাপক সামরিক’ অভিযানের নির্দেশ নেতানিয়াহুর: ৪ ফিলিস্তিনি নিহত

ডিডি ডিজিটাল ডেস্ক: অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে এবার এক ‘ব্যাপক সামরিক অভিযান’ চালানোর জন্য সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলি শীর্ষ নেতৃত্ব সেনাবাহিনীর প্রতি এই নির্দেশ জারি করে। একই সঙ্গে, উত্তর পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি শহর ‘টেল’-এর কাছে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর গুলি চালানোর দায়ে অভিযুক্ত ফিলিস্তিনির বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম ও চ্যানেল ১৩-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নাবলুসের কাছে অবস্থিত অবৈধ ‘হাভাত গিলাদ’ বসতির কাছে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধকারীরা বসতির এক নিরাপত্তা কর্মকর্তার অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে সেখানে থাকা ইসরায়েলি দখলদারদের ওপর এলোপাথাড়ি গুলি চালায়।এই গুলির ঘটনায় ১ জন ইসরায়েলি দখলদার নিহত হন এবং অন্তত ৩ জন আহত হন।

ঘটনার পরপরই বার্তা সংস্থা আনাদোলুর সংবাদদাতা জানান, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর এক বিশাল বহর উত্তর পশ্চিম তীরের ঐতিহাসিক নাবলুস শহরে জোরদার অভিযান শুরু করে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, শুক্রবারের প্রথম দিকে নাবলুসের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত টেল গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী ও অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের যৌথ হামলায় ৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আরও অন্তত ৪ জন আহত হয়েছেন—যাঁদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পশ্চিম তীরে নতুন করে চরম সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যৌথ সামরিক অভিযানের নির্দেশের পর থেকে সমগ্র নাবলুস অঞ্চলে চেকপোস্ট ও অবরোধ আরও কঠোর করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ঘটনাস্থলে সৈন্য মোতায়েন ও সামরিক অভিযানের দৃশ্য সরাসরি দেখতে দেখুন: পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তৎপরতা সংক্রান্ত ভিডিও। তাতে গোলাগুলির ঘটনার পর নাবলুস ও হাভাত গিলাদ বসতি সংলগ্ন এলাকায় ইসরায়েলি সেনা ও জরুরি পরিষেবা দলের ব্যাপক উপস্থিতি ও সামরিক তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।

গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা

গাজায় ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ফের বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। মধ্য গাজার মাগাজি শরণার্থী শিবির এবং গাজা সিটিতে চালানো পৃথক হামলায় এক ফিলিস্তিনি নারীর মৃত্যু হয়েছে এবং দুই নারীসহ অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। চিকিৎসা সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে সংবাদ সংস্থা আনাদোলু।

মেডিকেল সূত্র জানায়, শুক্রবার মধ্য গাজার মাগাজি শরণার্থী শিবিরে একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান থেকে ভারী বোমা বর্ষণ করা হয়। হামলায় দুই নারীসহ চার ফিলিস্তিনি মাঝারি ধরনের আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার ঠিক আগে পুরো একটি আবাসিক এলাকা খালি করার নির্দেশ দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং শত শত পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে লক্ষ্যবস্তু করা বাড়িটি মাটির সঙ্গে মিশে যায় এবং আশপাশের ডজনখানেক ঘরবাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অন্যদিকে, গাজা সিটির আল-শিফা হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আল-জালা স্ট্রিটের আল-জাহারনা এলাকায় নিজের বাড়িতে ইসরায়েলি বোমার আঘাতে গুরুতর আহত ৫৬ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি নারী মোনা মাদি থাবেত শুক্রবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যাতেও খালি করার নোটিশ জারির পর বুরেজ শরণার্থী শিবিরের একটি মসজিদ এবং গাজা সিটি ও উত্তর গাজার তিনটি বসতবাড়িতে একযোগে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়িত হওয়ার পর থেকেও ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক হামলায় এ পর্যন্ত ১,১৮৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৩,৮১৬ জন। প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুক্তরাস্ট্রের সমর্থনে গাজায় দুই বছরব্যাপী যে ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছিল ইসরায়েল, তাতে গাজা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে ৭৩,০০০-এরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারান এবং ১,৭৩,০০০-এর বেশি মানুষ আহত হন। দীর্ঘ এই আগ্রাসনে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ নাগরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংস হয়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!