নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: এসআইআর নিয়ে একযোগে নির্বাচন কমিশন ও গেরুয়া শিবিরকে নিশানা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার নেতাজি ইন্ডোরের সভামঞ্চ থেকে বিজেপিকে তোপ দেগে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “বাংলাকে জব্দ করতে চাইছে, ওদের স্তব্ধ করব। বিজেপি রইল পিছুর টানে, কাঁদবে তুমি কাঁদবে। আমরা যা লক্ষ্য করলাম ১.৫ কোটি নাম বাদ দিতে হবে। বিজেপি খোকাবাবুদের আবদার। হাত ঘুরিয়ে নারু পাব। বাংলাকে দখল করব। অসম্মান করব, বাংলার ইতিহাস ভুলিয়ে দেব। চালাকি! চালাকি দিয়ে মহৎ কাজ হয় না।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিজেপি সব এজেন্সিকে দালাল বানিয়েছে। ভ্যানিশ কুমার বাবুরা ২ বছরের কাজ দু’মাসে করতে চায়। ২২ থেকে ২৪ বার নির্বাচন কমিশন নির্দেশ পরিবর্তন করেছে। এত বার অ্যাপ পরিবর্তন হয়েছে যে বেচারা বিএলওদের কাজ করা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। আসলে নির্বাচন কমিশন নিজেই নিশ্চিত নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যা বলছে, তাই করছে।”
এরপরই হুঙ্কার দিয়ে মমতার বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনকে চালাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সবটাই পরিচালিত হচ্ছে বিজেপির অঙ্গুলিহেলনে। শাহকে কটাক্ষ করে তাঁর দাবি, “প্রধানমন্ত্রীকেও নিয়ন্ত্রণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এইরকম অপদার্থ হোম মিনিস্টার দেখিনি। স্বৈরাচারী, দুরাচারী। বাকি শব্দ তোলা থাকল। দাঙ্গাকারীরা যদি দেশ চালায় তাহলে কী হবে বুঝুন। গান্ধীজির নাম বাদ দিয়ে রাম নাম? দেশটাকে রাম নাম সত্য হে করে দিচ্ছে।”
একইসঙ্গে ছাব্বিশের ভোটের টার্গেট বেঁধে দিয়ে মমতা বলেন, “আর কত যাবে বাংলার সম্মান? বিশ্বকবি, বিদ্যাসাগর, গন্ধিজিকে অসম্মানিত হতে হবে? বাংলা ভাষার অস্মিতাকে অসম্মানিত হতে হবে? এর জবাব চাই, বাংলায় বিজেপিকে পা রাখতে দেওয়া যাবে না। আমি বিশ্বাস করি নেতারা পারবে না, কর্মীরা পারবে। টাকার কোনও দাম নেই, জীবন দিয়ে যেটা সঞ্চয় করবেন সেই কর্মের দাম থাকবে।” দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে মমতার বার্তা, “আমার জীবন আমার সংগ্রামকে সম্মান জানান তাহলে ওদের জিরো করে দিন। এই লড়াই করতে হবে। এই সাম্প্রদায়িকতা বিসর্জন দিন। ২৬-এর নির্বাচন বিজেপির বিসর্জন। বিজেপির দালালদের বিসর্জন।”
বাংলায় থাকা বিহারবাসীদের উদ্দেশে মমতার বার্তা, “বিহারে ভোট না দিলে সম্পত্তির অধিকার দেবে না। ভুল। আপনারা যদি ওখানে ভোট না দেন, এখানে থাকেন, কাজ করেন, তাহলেও কেউ অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না। বাংলায় থাকতে চাইলে ভোটার লিস্টে নাম তুলুন, বিহার থেকে নাম কাটুন।”
