নিজস্ব সংবাদদাতা, জলঙ্গি: অবাধ জুয়ার রমরমা এবং তাতে জড়িয়ে পড়ার জেরে আত্মহত্যার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়াল মুর্শিদাবাদের জলঙ্গিতে। সরকারি বৃত্তিমূলক শিক্ষাকেন্দ্রের প্রশিক্ষক শাহিনুর রহমান ওরফে মিন্টু (বয়স ৩৪) রবিবার তাঁর ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পরে তাঁর লেখা এক পাতার সুইসাইড নোট প্রকাশ্যে আসতেই এলাকায় তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়। নোটের শেষ লাইনে মিন্টু লেখেন, “আমার মৃত্যুর জন্য জুয়া ছাড়া আর কেউ দায়ী নয়।”
সেই নোটে তিনজনের নামও উল্লেখ করেন তিনি। মৃতের পরিবারের দাবি, ওই তিনজন জুয়ার সঙ্গে যুক্ত এবং মিন্টুকে জুয়ার জালে ফাঁসিয়ে দেন। এছাড়া থানার নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি ও অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে।
সুইসাইড নোটে মিন্টু আরও লেখেন, জুয়ায় আসক্ত হওয়ার পর থেকেই তাঁর জীবন “তিলে তিলে শেষ হয়ে যাচ্ছিল” এবং তাঁর সমস্ত টাকা ওই তিনজনের কাছেই রয়েছে। তবে শেষে তিনি স্পষ্ট করে দায় জুয়ার ওপরেই চাপিয়ে লেখেন, “আমার মৃত্যুর জন্য জুয়া ছাড়া আর কেউ দায়ী নয়।”
ঘটনার পর মৃতের আত্মীয় বলেন, “এই তিনজনের জন্যই আমার জামাইবাবু এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একজন তো সিভিক ভলান্টিয়ার। আমরা আইনের পথে যাব।” মৃতের শাশুড়ি আঞ্জুমান আখতার বলেন, “জুয়া বন্ধ হওয়া দরকার। আমার মেয়ের মতো আর কাউকে বিধবা হতে হবে না।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় জুয়ার রমরমা চলছে। জলঙ্গির বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “এর আগেও খবর পেয়েছিলাম। পুলিশি হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রণ হয়েছিল। এখন আবার শুরু হয়েছে বলে শুনছি।”
ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ জানান, “অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মৃতের পরিবার নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করেনি। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। এলাকায় জুয়া অনেকটাই কমানো হয়েছে।”
