নিজস্ব সংবাদদাতা, বহরমপুর: ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র বিক্ষোভ ও পথঅবরোধ শুরু হয়েছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত। শুনানির নামে সাধারণ মানুষকে চূড়ান্ত হয়রানি ও হেনস্থা করার অভিযোগ তুলে বুধবার মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং হাওড়া-সহ একাধিক জেলায় দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক কর্মীরা। বহু জায়গায় জাতীয় সড়ক অবরোধ করায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
অভিযোগ উঠেছে, ভোটার তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও হাজার হাজার মানুষকে নতুন করে নথি যাচাইয়ের জন্য দূর-দূরান্তের বিডিও অফিসে তলব করা হচ্ছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায় শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে এক বৃদ্ধার স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, মালদহে কাজের চাপে এক বুথ স্তরের আধিকারিক (বিএলও) জ্ঞান হারিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে বর্তমান তালিকার সংযোগ বা ‘ম্যাপিং’ করার নামে বৈধ ভোটারদের ওপর অহেতুক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি শতায়ু বৃদ্ধ বা শারীরিক প্রতিবন্ধীদেরও ২০-২৫ কিলোমিটার দূরে শুনানি কেন্দ্রে ডাকা হচ্ছে। ফরাক্কায় ক্ষুব্ধ জনতা বিডিও অফিসে ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনার জেরে সেখানে শুনানি প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এই প্রক্রিয়ার তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের অভিযোগ, এটি সাধারণ মানুষকে নাগরিকত্ব বা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার একটি চক্রান্ত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখে এই ‘অমানবিক’ প্রক্রিয়া বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ভিনদেশি ও মৃত ভোটারদের সরাতেই এই কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন, তবে সাধারণ মানুষের হয়রানি কাম্য নয়।
কমিশনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত শুনানি কেন্দ্র বাড়ানোর আশ্বাস দেওয়া হলেও মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। আগামী দিনে এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
