ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ষড়যন্ত্র করে কি ভোটার তালিকা থেকে সংখ্যালঘু মুসলিমদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে! এমনই এক বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে। জয়পুরের হাওয়া মহল বিধানসভা কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও) অভিযোগ করেছেন, তাঁকে শত শত ভোটারের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে, যাদের অধিকাংশই মুসলিম। অতিরিক্ত মানসিক চাপে পড়ে তিনি আত্মহত্যার চিন্তায় পৌঁছে গিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন ওই বিএলও।
হাওয়া মহল কেন্দ্রে বিএলও হিসেবে কাজ করছেন সরকারি স্কুলের শিক্ষক কীর্তি কুমার। তিনি বলেন, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর)–এর পর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা থেকে তাঁর বুথের প্রায় ৪০ শতাংশ ভোটারের নাম কাটার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই আপত্তিগুলি বিশেষভাবে মুসলিম ভোটারদের লক্ষ্য করে তোলা হয়েছে। যদিও তিনি ইতিমধ্যেই মাঠে নেমে প্রত্যেককেই যাচাই করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, ফোনে কথা বলতে গিয়ে কুমারকে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “আমি কালেক্টরের অফিসে গিয়ে আত্মহত্যা করব।” একই ভিডিয়োতে তিনি বিজেপি কাউন্সিলর সুরেশ সাইনিকে বলেন, “হয়তো পুরো বস্তির ভোটারদেরই বাদ দিয়ে দেওয়া উচিত। তাতে আপনারা আর ‘মহারাজ’ (পদ্ম বিধায়ক) সহজেই নির্বাচন জিততে পারবেন।” প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মুসলিম-অধ্যুষিত হাওয়া মহল কেন্দ্র থেকে মাত্র ৯৭৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন বিজেপি বিধায়ক বালমুকুন্দ আচার্য। জয়পুরের দক্ষিণমুখীজি বালাজি মন্দিরের প্রধান পুরোহিত আচার্য পরবর্তীতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে মন্তব্য ও কার্যকলাপের অভিযোগে একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছেন।
নিউজলন্ড্রিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কীর্তি কুমার বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে তাঁর শিক্ষকতার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং ছাত্র-ছাত্রীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন তাঁকে মাত্র দু’দিনের মধ্যে ৪৭০টি আপত্তি নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, “এতে অন্তত ৭৮ ঘণ্টা সময় লাগবে। তার পরে আবার মাঠে নেমে ভোটারদের যাচাই করতে হবে। মানে পুরো কাজটাই আবার নতুন করে করতে হবে।” বিএলওর দাবি করেন, “এসআইআর করেই আমরা ইতিমধ্যেই ক্লান্ত। বিজেপি নেতারা আমাদের সাসপেনশনের হুমকি দিচ্ছেন। আমি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি যে আমি আর এটা করতে পারছি না।”
এদিকে, পাশের অন্তত আরও পাঁচটি বুথের বিএলও অভিযোগ করেছেন, যে বুথে ভোটারদের অধিকাংশই হিন্দু, তাঁদের বুথে কোনও আপত্তিই জমা পড়েনি। একই এলাকার আর এক বিএলও সরস্বতী মীনা বলেন, তাঁর বুথে ১৫৮ জন ভোটারের বিরুদ্ধে আপত্তি তোলা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, এই সব আপত্তিই বিজেপি এজেন্টরা তুলেছেন, সেগুলিও মূলত মুসলিম ভোটারদের বিরুদ্ধে। মীনা বলেন, “এসআইআর চলাকালীন আমরা ইতিমধ্যেই এই ভোটারদের যাচাই করেছি। ওঁরা এখানেই থাকেন। এটা সম্পূর্ণ অন্যায়। আমাদের উপর এভাবে চাপ দেওয়া যায় না।”
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক মাসগুলিতে রাজস্থানে অন্তত তিন জন বিএলওর মৃত্যু হয়েছে। অতিরিক্ত কাজের চাপ, অ্যাপের ত্রুটি, পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাব এবং অবাস্তব সময়সীমা নিয়ে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।
