TOP NEWS

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি ‘সারেন্ডার’: সংসদের বাইরে বিরোধীদের তীব্র বিক্ষোভ, তোপ রাহুল গান্ধীর

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তিকে দেশের স্বার্থবিরোধী এবং “সারেন্ডার” (আত্মসমর্পণ) বলে অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার সংসদ ভবন চত্বরে তীব্র প্রতিবাদ জানাল বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রাসহ বিরোধী সাংসদরা এই চুক্তির বিরোধিতা করে সংসদের মকর দ্বারের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

সংসদে বিক্ষোভ ও পোস্টার যুদ্ধ

বিক্ষোভকারী সাংসদদের হাতে ছিল একটি বিশাল ব্যানার, যেখানে এই চুক্তিকে “ফাঁদ চুক্তি” (Trap Deal) বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও, “নরেন্দ্র সারেন্ডার” লেখা পোস্টার হাতে সাংসদরা “ইউএস ডিল হ্যায় অত্যাচারী” (মার্কিন চুক্তি অত্যাচারী) এবং “দেশ কো বেচনা বন্ধ করো” (দেশ বিক্রি বন্ধ করো) স্লোগান তোলেন। বিক্ষোভে অংশ নেন কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল ও জয়রাম রমেশ, ডিএমকের টি আর বালু, সমাজবাদী পার্টির ধর্মেন্দ্র যাদব ও জয়া বচ্চন, এবং সিপিআই-এমএল-এর সুদামা প্রসাদসহ অন্যান্য বিরোধী দলের নেতারা। পরে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা এবং সম্প্রতি সাসপেন্ড হওয়া কংগ্রেস সাংসদদের নিয়ে মকর দ্বারের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

রাহুল গান্ধীর নিশানায় মোদী সরকার

এর আগে লোকসভায় বিরোধীদের নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেন যে, শ্রমিক ও কৃষকদের ভবিষ্যৎ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সরকার তাদের কণ্ঠস্বরকে উপেক্ষা করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কি এবার তাদের কথা শুনবেন, নাকি তার ওপর কারোর “কঠিন নিয়ন্ত্রণ” রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাহুল।

গত বুধবার লোকসভায় বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে রাহুল গান্ধী দাবি করেছিলেন, বিজেপি-র আর্থিক কাঠামোকে রক্ষা করার জন্য এই বাণিজ্য চুক্তির অধীনে ভারতের স্বার্থ “সারেন্ডার” করা হয়েছে। ইন্দো-ইউএস চুক্তিকে নিশানা করে তিনি মার্শাল আর্টের উপমা দিয়ে বলেন, “গ্রিপ (মুঠো) শক্ত করার পর পরবর্তী ধাপ হলো চোকহোল্ড (শ্বাসরোধ), তারপর প্রতিপক্ষ হেরে যায়।” রাহুল স্পষ্টভাবে বলেন, ভারতের শক্তি নিরাপত্তা আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং কৃষকদের স্বার্থ বিসর্জন দেওয়া হয়েছে।

সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন ও বিরোধীদের বার্তা

রাহুল গান্ধী জোর দিয়ে বলেন, দেশের মানুষ, তথ্য, খাদ্য সরবরাহ এবং জ্বালানি ব্যবস্থা রক্ষা করা প্রয়োজন। তিনি দাবি করেন, যদি INDIA জোটের সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সাথে এই বাণিজ্য চুক্তি আলোচনা করত, তবে তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্পষ্ট জানিয়ে দিত যে, ভারতকে সমানভাবে বিবেচনা করতে হবে। সংসদ চত্বরে এই বিক্ষোভের মাধ্যমে বিরোধীরা স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, বাণিজ্য চুক্তির নামে দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থে কোনো আপস তারা মেনে নেবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!