নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: মঙ্গলবার রাতে ডোমকল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ছড়াল আগুন আতঙ্ক। কালো ধোঁয়া দেখতে পাওয়ার পরই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে হাসপাতাল চত্বরে। জানা গিয়েছে, এদিন রাতে হাসপাতালের তৃতীয় তলে অবস্থিত প্রসূতি বিভাগ থেকে হঠাৎ কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখে রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের মধ্যে প্রাণভয়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে প্রাণভয়ে অনেকে ওয়ার্ড ছেড়ে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন, ফলে সাময়িক হুড়োহুড়ির পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে দমকল ও প্রশাসনের দ্রুত তৎপরতায় বড়সড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি।
সূত্রের খবর, মঙ্গলবার রাতে যখন হাসপাতালের ওয়ার্ডে রোগীরা বিশ্রামে ছিলেন, ঠিক তখনই তিনতলার ইলেকট্রিক বোর্ড থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই ধোঁয়া গোটা প্রসূতি বিভাগে ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সদ্যোজাতদের মায়েরা। নিজের ও সন্তানের প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই ওয়ার্ড ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন, যার ফলে হাসপাতালে সাময়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এক রোগীর আত্মীয়ের দাবি করেন, “একটি ইলেকট্রিক বোর্ডে মোবাইল চার্জ হচ্ছিল। হঠাৎ চার্জারটি ফেটে যায় (বাস্ট করে) এবং বোর্ডটিতে আগুন ধরে যায়। মুহূর্তেই চারপাশ ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। ধোঁয়ার তীব্রতায় কিছুক্ষণের জন্য রোগীদের মধ্যে শ্বাসকষ্টের আশঙ্কাও তৈরি হয়।” প্রসূতি বিভাগের মতো স্পর্শকাতর ওয়ার্ডে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও উঠেছে।
আগুন লাগার খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একটি ইঞ্জিন এবং ডোমকল থানার পুলিশ বাহিনী। দমকল কর্মীরা তৎপরতার সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রশাসন ও দমকল বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি অল্প সময়ের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আসে। বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলেই প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। হাসপাতালের এক কর্তা জানান, ঠিক কী কারণে আগুন লেগেছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে আগুনের জেরে রোগীরা যথেষ্ট আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ও দমকল বিভাগকে খবর দেওয়া হয়। তাঁদের দ্রুত পদক্ষেপেই বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ইলেকট্রিক বোর্ডে শর্ট সার্কিটের জেরেই আগুন লেগে থাকতে পারে। ডোমকলের দমকল বিভাগের ওসি অমর পাল বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। ইলেকট্রিক বোর্ডে শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত।
