TOP NEWS

ডোমকলেও ‘বুলডোজার’! ফুটপাতের বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে ব্যবসায়ীদের আলটিমেটাম পুরসভার

নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: রাজ্যে বেআইনি বহুতল এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে লাগাতার চালানো হচ্ছে বুলডোজার অভিযান। এবার সেই উচ্ছেদ অভিযানের খাঁড়া নেমে আসতে চলেছে মুর্শিদাবাদের ডোমকল পুরসভা এলাকাতেও। ফুটপাত ও সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে ওঠা ক্ষুদ্র ও মাঝারি দোকানগুলির বর্ধিত অংশ গুঁড়িয়ে দিতে ইতিমধ্যেই তৎপরতা শুরু করেছে পুর কর্তৃপক্ষ। আর এর জেরেই ডোমকলের ব্যবসায়ী মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র চাঞ্চল্য ও বুলডোজার-আতঙ্ক। ডোমকল পুরসভার পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই এলাকার বহু ব্যবসায়ীকে আইনি নোটিশ ধরানো হয়েছে। পুরসভার জায়গা দখল করে তৈরি করা অতিরিক্ত শেড, ছাউনি এবং অন্যান্য অস্থায়ী স্থাপনা অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওই নোটিশে।

পুরসভার পক্ষ থেকে পাঠানো ওই নোটিশে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। নোটিশে বলা হয়েছে, “ডোমকল পৌরসভার পরিদর্শনে দেখা গিয়েছে যে, আপনার দোকান বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একটি অংশ (শেড/ছাউনি/স্থাপনা) পৌরসভার ফুটপাতের উপর বেআইনিভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। এর ফলে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচলে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, যা পুরসভার আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। অতএব, নোটিশ পাওয়ার তারিখ থেকে আগামী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে ওই বর্ধিত অংশ সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে ভেঙে বা সরিয়ে ফেলতে হবে।” ডোমকল পুরসভা কর্তৃপক্ষ আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর কোনো অতিরিক্ত নোটিশ ছাড়াই ডোমকল পুরসভা নিজস্ব উদ্যোগে ওই বেআইনি অংশ ভেঙে দেবে। শুধু তাই নয়, উচ্ছেদ কার্য পরিচালনার জন্য যে খরচ হবে, তাও আইনানুগভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর কাছ থেকেই জরিমানা হিসেবে আদায় করা হবে। পাশাপাশি, ব্যবসায়ীরা যদি নিজ উদ্যোগে এই শেডগুলি ভেঙে ফেলেন, তবে তার ছবি তুলে পুরসভাকে ই-মেইলের মাধ্যমে জানাতে বলা হয়েছে।

পুরসভার এই কড়া নির্দেশিকা হাতে পাওয়ার পর থেকেই ডোমকলের ব্যবসায়ীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। পেটের দায়ে ব্যবসা করা এই ক্ষুদ্র দোকানিদের একাংশের দাবি, বর্তমান প্রশাসন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ বা ছোট ব্যবসায়ীদের স্বার্থের কথা একেবারেই ভাবছে না। ক্ষোভের সুরে এক স্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, “আমাদের দোকানের ভেতরের জায়গা অত্যন্ত ছোট। দোকানে কোনো খরিদদার আসলে প্রখর রোদে যাতে দাঁড়িয়ে কষ্ট না পান, সেই কথা ভেবেই সামনে সামান্য একটু শেড বা ছাউনি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রশাসন যখন আইন দেখাচ্ছে এবং ভেঙে নিতে বলেছে, তখন নিজেদের খরচেই তা ভেঙে নিতে হবে। এছাড়া আমাদের আর কোনো উপায় নেই।”

ফুটপাত দখলমুক্ত করার বিষয়ে ডোমকলের এক পুলিশ আধিকারিক জানিয়েছেন, আইন ও নিয়ম মেনেই পুরসভার পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের নির্দিষ্ট সময় দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি জায়গা ও ফুটপাত দখল করে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ব্যবসায়ীরা যদি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজে থেকে ওই অবৈধ শেড ও স্থাপনা সরিয়ে নেন, তবে ভালো। অন্যথায়, প্রশাসন আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেবে। রাস্তা সচল করতে প্রয়োজনে এলাকায় বুলডোজার চালানো হবে। এদিকে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ব্যবসায়ীরা নিজে থেকে ফুটপাত খালি করেন, নাকি ডোমকলের রাস্তায় পুরসভার বুলডোজার নামে—এখন সেটাই দেখার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!