নিজস্ব সংবাদদাতা, ডোমকল: তৃণমূল সরকার আমলের অন্যতম জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্প ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-কে (Lakshmir Bhandar) কেন্দ্র করে ডোমকলে এক চাঞ্চল্যকর ব্যাংক জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। মহিলাদের নামে অবৈধভাবে ভুয়ো নথি দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে সরকারি ভাতার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে ডোমকল থানার পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অ্যাকাউন্ট জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের নাম আলী খুররম ওরফে নিউটন (বাড়ি মানিকনগর এলাকা), সার্জেন শেখ (বাড়ি জোড়গাছা এলাকা) এবং মিজানুর রহমান (বাড়ি লস্করপুর এলাকা)। তিন অভিযুক্তকে মঙ্গলবার ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে বহরমপুরের জেলা আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই ডোমকল ও সংলগ্ন এলাকার কিছু ব্যাংকে সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টের হদিস মিলছিল। অভিযোগ ওঠে, এলাকার বেশ কিছু মহিলার অজান্তেই তাঁদের নথিপত্র ব্যবহার করে অথবা সম্পূর্ণ জাল ও ভুয়ো তথ্য দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই সমস্ত ভুয়ো অ্যাকাউন্টগুলিতেই নিয়মিতভাবে রাজ্য সরকারের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের ভাতার টাকা ঢুকছিল। প্রশাসনিক স্তরে এই গরমিল নজরে আসতেই ডোমকল থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী আধিকারিকেরা ওই সমস্ত সন্দেহজনক অ্যাকাউন্টে নাম থাকা নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের থানায় ডেকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। আর তাতেই কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে আসে। অ্যাকাউন্টধারীরা স্পষ্ট জানান, এই অ্যাকাউন্টগুলি সম্পর্কে বা এই টাকা লেনদেন বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না। এরপরই নথিপত্র যাচাই করে পুলিশ আলী খুররম ওরফে নিউটন, সার্জেন ও মিজানুর রহমানের হদিস পায় এবং তাঁদের গ্রেফতার করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশ নিশ্চিত, ডোমকলের এই তিন যুবক কেবল টাকার লোভে এই জালিয়াতি সিন্ডিকেটের সামনের সারিতে কাজ করছিল। ভুয়ো আধার কার্ড, ভোটার কার্ড বা অন্যান্য সরকারি পরিচয়পত্র ব্যবহার করে যেভাবে একের পর এক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে, তা কোনো সাধারণ ব্যক্তির পক্ষে একা করা সম্ভব নয়। এর পিছনে কোনো বড় চক্র বা কোনো সরকারি তথ্য ফাঁসের যোগসূত্র রয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ডোমকল থানার পুলিশ জানিয়েছে, এই জালিয়াতির আসল ‘মাথা’ কে বা কারা, তা খুঁজে বের করতে তল্লাশি অভিযান জারি রাখা হয়েছে।
সরকারি প্রকল্পের টাকা তছরূপ এবং নথি জালিয়াতির মতো গুরুতর অপরাধে ধৃত নিউটন, সার্জেন ও মিজানুর রহমানকে জেরা করে আরও অনেক তথ্য উদ্ধার করতে চায় পুলিশ। ব্যাংক কর্মীদের কোনো গাফিলতি বা যোগসাজশ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেই কারণেই মঙ্গলবার ধৃত তিনজনকে ১০ দিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে জেলা আদালতে পেশ করেছে পুলিশ।
