ডিডি, ডিজিটাল ডেস্ক: মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা (UBT) এবং বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা সাংসদ বিদ্রোহ নিয়ে এবার তীব্র আক্রমণ শানালেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন (মিম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। বৃহস্পতিবার ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে হায়দরাবাদের সাংসদ বিরোধী দলগুলির সাংগঠনিক ব্যর্থতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। নিজের ব্যর্থতা আড়াল করতে বিরোধীরা কেন বারবার অন্য কারও ওপর দায় চাপাচ্ছে—তা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন ওয়াইসি।
মহারাষ্ট্রের শিবসেনার ৯ জন লোকসভা সাংসদের মধ্যে সিংহভাগই একনাথ শিন্দের শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন—এমনই এক ‘অপারেশন টাইগার’ জল্পনার মধ্যে আসাদউদ্দিন ওয়াইসি লিখেছেন, “উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনার বেশ কয়েকজন সাংসদ এখন বিজেপি বা শাসক শিবিরে যাওয়ার জন্য পা বাড়িয়ে রয়েছেন। বিরোধী শিবিরের সেই দুই ‘বিশিষ্ট সাংসদ’-এর কি এবার আমাদের জানানো উচিত নয় যে, ঠিক কারা এই সাংসদদের দলবদল করার জন্য ‘হুমকি’ দিয়েছিল? নিজেদের সমস্ত সাংগঠনিক ব্যর্থতার জন্য আপনারা কেবল একজন ব্যক্তির ওপর দোষ চাপাতে পারেন না।” তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কেন এত সহজে দলে দলে সবাই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে? এই সমস্ত মানুষ কেন নিজেদের দল ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে?”
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে গত রবিবার ২০ জন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল সাংসদ যেভাবে দলনেত্রীর বিরুদ্ধে সরব হয়ে স্পিকারের দ্বারস্থ হয়েছেন, সেই প্রসঙ্গ টেনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি ওয়াইসি। তৃণমূলের এই ভাঙন নিয়ে মিম প্রধান বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেসের ওই ১৯-২০ জন সাংসদ কেন দলত্যাগ করলেন? হয়তো এবারও আসল দোষী কে, তা খুঁজে বের করে তার ওপর দায় চাপাতে এই দলটির আরও একটা মাস সময় লেগে যাবে!” ওয়াইসির কটাক্ষ, “শিকারী নয়া হ্যায়, জাল পুরানা হ্যায়…”
নিজের রাজনৈতিক বিরোধীদের ভিত্তিহীন অভিযোগ ও কাদা ছোড়াছুড়ি নিয়ে সতর্ক করে দিয়ে প্রধান পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত (১০৪:১) উদ্ধৃত করেন ওয়াইসি। তিনি লেখেন, “পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে—‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা পশ্চাতে ও সম্মুখে মানুষের নিন্দা ও অপবাদ রটায়’।” পোস্টের শেষে বর্তমান ভারতের রাজনৈতিক দলবদল এবং ক্ষমতার খেলাকে একটি চমৎকার কাব্যিক লাইনে বেঁধে তীব্র কটাক্ষ করেন আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। তিনি লেখেন—”শিকারী নয়া হ্যায়, জাল পুরানা হ্যায়…” (অর্থাৎ, শিকারী হয়তো নতুন, কিন্তু ফাঁদ পাতার জালটা সেই পুরোনোই)।
