ইনস্টাগ্রামের প্রেম গড়াল নৃশংস হত্যাকাণ্ডে! বেঙ্গালুরুতে লিভ-ইন পার্টনারকে শ্বাসরোধ করে খুন, ধৃত প্রেমিক
(Representation Image)
ডিডি, ডিজিটাল ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ার সূত্র ধরে গড়ে ওঠা প্রেমের এক মর্মান্তিক ও নৃশংস পরিণতি দেখল প্রযুক্তি নগরী বেঙ্গালুরু। মালেশ্বরম এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে অনুষা (২০) নামের এক তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, তাঁর লিভ-ইন পার্টনার শরৎ (২৭) শনিবার রাতে বচসার জেরে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে। এই ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত তরুণী অনুষা এবং অভিযুক্ত শরৎ—দুজনেই কর্ণাটকের হাসান জেলার সাকলেশপুরের বাসিন্দা ছিলেন। প্রায় বছর খানেক আগে ইনস্টাগ্রাম-এর মাধ্যমে তাঁদের আলাপ হয়। সময়ের সাথে সাথে সেই আলাপ গভীর প্রেমে রূপ নেয়। গত ছয় মাস ধরে তাঁরা দুজনে বাড়ি ছেড়ে বেঙ্গালুরুর মালেশ্বরম এলাকার একটি ফ্ল্যাটে লিভ-ইন পার্টনার হিসেবে থাকতে শুরু করেন। বেঙ্গালুরু শহরে শরৎ একটি জলের ট্যাঙ্কারের চালক হিসেবে কাজ করতেন।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁদের মধ্যে কিছু ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সমস্যা নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। গত শনিবার (১৩ জুন) রাতে সেই ব্যক্তিগত বিষয়গুলি নিয়েই দুজনের মধ্যে তীব্র তর্কাতর্কি শুরু হয়। ঝগড়া চরম রূপ নিলে আচমকা রাগের মাথায় শরৎ অনুষার ওপর চড়াও হয় এবং তাঁর গলা টিপে ধরে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্বাসরোধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ২০ বছরের ওই তরুণীর।
খুন করার পর প্রায় দু’দিন ধরে বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করে শরৎ। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। সোমবার সে আইনগত পরামর্শের জন্য নিজের আইনজীবীর কাছে যায় এবং অপরাধের কথা স্বীকার করে। ঘটনার ভয়াবহতা বুঝতে পেরে ওই আইনজীবী কালক্ষেপ না করে সরাসরি পুলিশকে বিষয়টি জানান।
আইনজীবীর কাছ থেকে তথ্য পেয়ে বেঙ্গালুরুর শেষাদ্রি পুরম থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ফ্ল্যাট থেকে অনুষার নিথর দেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পর পুলিশ একটি খুনের মামলা দায়ের করে এবং পালানোর চেষ্টা করার আগেই অভিযুক্ত শরৎকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, সমস্ত প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর অনুষার মৃতদেহটি তাঁর শোকস্তব্ধ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ধৃত শরৎকে বর্তমানে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই খুনের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা পুরনো কোনো আক্রোশ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে আরও তদন্ত চালাচ্ছে বেঙ্গালুরু পুলিশ।
