TOP NEWS

ময়নাতদন্তের পর মৃতদেহ অদলবদল: সৎকার করার মুখে পর্দাফাঁস, হাসপাতালের চরম গাফিলতিতে তীব্র ক্ষোভ

ডিডি, ডিজিটাল ডেস্ক: উত্তর-পূর্ব ভারতের সবচেয়ে প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান আসাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চরম গাফিলতির এক স্তম্ভিত করে দেওয়ার মতো ঘটনা সামনে এসেছে। ময়নাতদন্তের পর দুই যুবকের মরদেহ একে অপরের পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার মারাত্মক ভুলের কারণে চরম হয়রানির শিকার হতে হলো দুটি পরিবারকে। শেষকৃত্য সম্পন্ন করার ঠিক আগের মুহূর্তে কফিন খুলতেই এই মারাত্মক বিভ্রাট জনসমক্ষে আসে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোনারির খামলুং লাইনের বাসিন্দা মনোজ বাউরি গত ৭ জুন ডিব্রুগড় যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে আসাম মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছিল। সেখানে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর গত রবিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিয়ম অনুযায়ী, মৃত্যুর পর মনোজের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনোজের পরিবারের হাতে একটি মরদেহ হস্তান্তর করে। শোকস্তব্ধ পরিবার সেটি মনোজের দেহ মনে করেই সোনারিতে তাঁদের বাড়িতে নিয়ে যান। সোনারির বাড়িতে মৃতদেহের শেষকৃত্যের প্রস্তুতি যখন চূড়ান্ত, ঠিক তখনই মনোজের কফিনটি খোলা হয়। কফিন খুলতেই উপস্থিত আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যায়। দেখা যায়, কফিনের ভেতরে থাকা মৃতদেহটি মনোজ বাউরির নয়, বরং অন্য কোনো অচেনা যুবকের। ঘটনার আকস্মিকতায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। পরিবার অবিলম্বে স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করে এবং আসাম মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষকে পুরো বিষয়টি জানায়।

তদন্ত শুরু হতেই এই ভুলের আসল চিত্রটি সামনে আসে। জানা যায়, ডুমডুমার বাসিন্দা সুনীল নায়েক নামের অপর এক যুবকের মরদেহও একই সময়ে হাসপাতালের মর্গে ছিল। কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতায় মনোজের দেহটি চলে যায় সুনীলের পরিবারের কাছে এবং সুনীলের দেহটি দেওয়া হয় মনোজের পরিবারকে। দুর্ভাগ্যবশত, সুনীলের পরিবারও সেটি তাঁদের আত্মীয়ের দেহ ভেবে বাড়ি নিয়ে চলে গিয়েছিলেন। ভুল ধরা পড়ার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি সমন্বয় সাধন করে দুটি মৃতদেহই আবার ডিব্রুগড়ে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করে। এরপর গভীর রাতে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর দুই পরিবারের উপস্থিতিতে মৃতদেহ দু’টি পুনর্বার অদলবদল করে সঠিক পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

মনোজ বাউরির পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া। এই মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনার শোকের পাশাপাশি হাসপাতালের এই চরম অপেশাদার মনোভাবের কারণে তাঁদের বাড়তি বিপুল আর্থিক ক্ষতি এবং অবর্ণনীয় মানসিক যন্ত্রণার সম্মুখীন হতে হলো। এই ঘটনার জানাজানি হতেই সমগ্র ডিব্রুগড় এবং সোনারি অঞ্চলে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছে। হাসপাতালের মতো একটি সংবেদনশীল জায়গায় কীভাবে এত বড় গাফিলতি হতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দোষী আধিকারিকদের কঠোর শাস্তি ও ভবিষ্যতে এমন ভুল রুখতে কঠোর প্রোটোকলের দাবি জানিয়েছেন নাগরিকেরা।

উল্লেখ্য, সোনারি অঞ্চলে এই ধরণের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও ভুল মরদেহ শনাক্তকরণের জেরে এক ব্যক্তির দেহ কবরস্থ করা হয়েছিল। পরে ভুল ধরা পড়ায় প্রশাসনের নির্দেশে কবর খুঁড়ে মৃতদেহ তুলে তা আসল পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছিল। তবে এই সাম্প্রতিক চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নিয়ে আসাম মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা ব্যাখ্যা দেয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!