TOP NEWS

আরএসএস-এর আইনি বৈধতা কি? প্রশ্ন তুলে ভাগবতকে চিঠি প্রিয়াঙ্ক খাড়গের, ‘রাজনৈতিক গিমিক’ বলে উড়িয়ে দিলেন সংঘ প্রধান

ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এর আইনি ভিত্তি এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে সরাসরি সংঘ প্রধান মোহন ভাগবতকে চিঠি পাঠালেন কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে। দেশের একটি সাংবিধানিক গণতন্ত্রে কোনো সংগঠনই স্ক্রুটিনি বা জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকতে পারে না—এই যুক্তি খাড়া করে আরএসএস-এর কাঠামো ও আয়ের উৎস জনসমক্ষে আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি। তবে কেরালা থেকে এই চিঠিকে একটি “রাজনৈতিক গিমিক” বলে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত।

কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে তাঁর চিঠিতে স্পষ্ট করে লিখেছেন, ভারতের প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ট্রাস্ট, এনজিও, চ্যারিটেবল বডি এবং সংস্থাকে আইন মেনে তাদের কাঠামো, কর্মকাণ্ড, আর্থিক লেনদেন এবং আয়ের উৎস সরকারের কাছে প্রকাশ করতে হয়। সেই নিয়ম মেনেই আরএসএস-এরও উচিত নিজেদের তথ্য জনসমক্ষে আনা। খাড়গে সংঘের কাছে মূলত ৮টি নির্দিষ্ট বিষয়ে স্পষ্টীকরণ ও তথ্য দাবি করেছেন—

১. আরএসএস-এর প্রকৃত আইনি মর্যাদা (Legal status) এবং সাংগঠনিক কাঠামো কী?

২. সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধিকারী ও অনুমোদিত প্রতিনিধিদের বিস্তারিত তথ্য।

৩. দেশ-বিদেশ থেকে আসা সমস্ত অনুদান, চাঁদা এবং আয়ের প্রকৃত উৎস।

৪. সংগঠনের মোট সম্পত্তি ও বার্ষিক ব্যয়ের খতিয়ান।

৫. দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য কর বা ট্যাক্স দেওয়া হচ্ছে কি না?

৬. কোনো আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোন আইনি ভিত্তিতে এই সংগঠনের কাজ চলছে?

৭. কোনো জন-জবাবদিহিতা (Public accountability) ছাড়া এত বড় স্কেলে কাজ করার সাংবিধানিক অধিকার তারা কীভাবে পায়?

৮. বিভিন্ন জনসভা, রুট মার্চ (পথ পরিক্রমা) এবং গণ-জমায়েতের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমতি ও নিয়মানুবর্তিতার মেকানিজম কী?

চিঠিতে প্রিয়াঙ্ক খাড়গে লেখেন, “যে সংগঠনটি প্রতিনিয়ত দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও কর্তব্যের কথা বলে, তাদের নিজেদেরও স্বচ্ছতা ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে সেই মূল্যবোধের প্রমাণ দেওয়া উচিত। আরএসএস সাধারণ ভারতীয়দের নিয়ম মানার কথা বলে নিজেদের সেই এক জোয়াল থেকে মুক্ত রাখতে পারে না।”

কর্নাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই চিঠির জবাবে কেরালার ত্রিশূর থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই ধরণের রাজনৈতিক চিঠির আলাদা করে জবাব দেওয়ার কোনো প্রয়োজন তিনি বোধ করেন না। প্রিয়াঙ্ক খাড়গের অভিযোগের জবাবে মোহন ভাগবত বলেন, “আমরা কোনো গোপন বা চোরাগোপ্তা কার্যকলাপ চালাই না। আমাদের সমস্ত কাজ জনসমক্ষে, খোলা মাঠে সাধারণ মানুষের সামনেই হয়। আমরা মানুষকে ডেকে সঙ্ঘের কথা বলি এবং আমাদের স্বেচ্ছাসেবকেরা সাধারণ মানুষের মাঝেই বসবাস করেন। সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি করার জন্য বছরের পর বছর ধরে আমাদের বিরুদ্ধে এই ধরণের মনগড়া অভিযোগ আনা হচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!