ডেইলি ডোমকল, ডিজিটাল ডেস্ক: পুরোহিত খুনে অভিযুক্তকে এনকাউন্টারে খতম করল যোগী পুলিশ। সোমবার উত্তরপ্রদেশের উন্নাও জেলায় বোধেশ্বর মন্দিরের পুরোহিত রাম মিলন দাস হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ‘ইসরার’ পুলিশি এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। এই গুলির লড়াইয়ের সময় স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ-এর এক কনস্টেবলও গুরুতর জখম হয়েছেন। উন্নাওয়ের পুলিশ সুপার জয় প্রকাশ সিং জানিয়েছেন, সোমবার উন্নাও পুলিশ এবং এসওজি-এর একটি যৌথ দল এলাকায় টহল দিচ্ছিল। সেই সময় গোপন সূত্রে খবর আসে, পুরোহিত খুনের প্রধান অভিযুক্ত ইসরার বাংগারমাউ থানা এলাকার তাজপুর গ্রামের আন্ডারপাসের কাছে লুকিয়ে রয়েছে। খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ও এসওজি বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলটি ঘিরে ফেলে এবং অভিযুক্তকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু পুলিশকে দেখেই আচমকা গুলি চালাতে শুরু করে ইসরার।
পুলিশ সুপার জানান, “অভিযুক্তের ছোঁড়া একটি গুলি সাব-ইন্সপেক্টর নিউটন কুমার সিং-এর বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটে লাগে এবং অপর একটি গুলি এসওজি কনস্টেবল বিকাশ ভাদৌরিয়ার বাহু এফোঁড়-ওফোঁড় করে দেয়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে ইসরার গুরুতর জখম হয়। তাকে তড়িঘড়ি বাংগারমাউ কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।” এনকাউন্টার স্থল থেকে পুলিশ একটি দেশি পিস্তল, দুটি ব্যবহৃত কার্তুজ এবং একটি ধারালো ছুরি উদ্ধার করেছে। জখম কনস্টেবল বিকাশ ভাদৌরিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এই এনকাউন্টারের সমান্তরালে পুলিশ এই মামলার আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। আগ্রা-লক্ষ্ণৌ এক্সপ্রেসওয়ের একটি ওভারব্রিজের কাছ থেকে শানু ওরফে ‘মুন্না কালিয়া’ নামের পঞ্চম অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃত মুন্না কালিয়াকে ধরার জন্য পুলিশ আগে থেকেই ১ লক্ষ টাকার পুরস্কার ঘোষণা করেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, পুরোহিত খুনের ঘটনায় মোট ৫ জন নামধারী এবং কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। ইসরারের মৃত্যু এবং মুন্না কালিয়ার গ্রেফতারের পর এই মামলার সমস্ত নামধারী মূল অভিযুক্তই এখন পুলিশের জালে।
এই এনকাউন্টারের পর উন্নাওয়ের লোকসভা সাংসদ সাক্ষী মহারাজ উত্তর প্রদেশ সরকারের অপরাধীদের প্রতি “জিরো টলারেন্স” (Zero tolerance) নীতির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এক বিবৃতিতে বিজেপি সাংসদ বলেন, “রাম মিলন দাসের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গোটা অঞ্চল স্তব্ধ ও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিল। আমি ঘটনার পর নিহতের পরিবারের সাথে দেখা করে আশ্বস্ত করেছিলাম যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে কোনো অপরাধীই আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। এই এনকাউন্টার প্রমাণ করে দিল যে, উত্তর প্রদেশে অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, নিজের অপরাধের শাস্তি তাকে পেতেই হবে।”
