ডিডি, ডিজিটাল ডেস্ক: আগামী ২১ জুন অনুষ্ঠিত হতে চলা ‘নিট’ পুনপরীক্ষার ঠিক পাঁচ দিন আগে রাজস্থানের সিকার জেলায় এক ২২ বছর বয়সী মেডিকেল পরীক্ষার্থীর আত্মহত্যার মর্মান্তিক ঘটনা সামনে এসেছে। সোমবার উমেশ মালি নামের এক ছাত্র নিজের ফ্ল্যাটে গলায় ফাঁস লাগিয়ে জীবন শেষ করে দেয়। আগামী ২১ জুনের পরীক্ষাটি ছিল তাঁর জীবনের তৃতীয় প্রচেষ্টা। গত এক মাসের মধ্যে সিকার জেলায় এই নিয়ে দ্বিতীয় ছাত্রের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটল।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃত ছাত্র উমেশ মালি ঝুনঝুনু জেলার নাওয়ালগড়ের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বাবা মুম্বাইতে টাইলস ঠিকাদারের কাজ করেন। সিকারের উদ্যোগ নগর থানা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে নিজের মা, বড় বোন এবং ছোট ভাইয়ের সাথে থেকে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন উমেশ। উদ্যোগ নগর থানার এসএইচও রাজেশ কুমার বুদানিয়া জানিয়েছেন, “সোমবার বিকেলে উমেশের ভাই ও বোন যখন ফ্ল্যাটে ফিরে আসেন, তখন তাঁরা উমেশকে সিলিং ফ্যানের সাথে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তদন্তের সময় ঘর থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে, যেখানে উমেশ লিখেছেন—‘দুঃখিত! আমি অনেক দূরে চলে যাচ্ছি; আমি নিজেও জানি না আমি কোথায় যাচ্ছি।’” সুইসাইড নোটে আত্মহত্যার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ময়নাতদন্তের পর পুলিশ মৃতদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং এই চরম পদক্ষেপের আসল কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।
উমেশের এই আকস্মিক মৃত্যু সিকারের কোচিং হাবের পড়ুয়াদের ওপর থাকা পাহাড়প্রমাণ মানসিক চাপকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। এর আগে গত ১৫ মে, প্রদীপ মাহিচ নামের অপর এক নিট পরীক্ষার্থীও একইভাবে তাঁর বোনের ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন। তদন্তে জানা যায়, প্রদীপ নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরবর্তীতে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার কারণে গভীর অবসাদে ভুগছিলেন। অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারের সন্তান প্রদীপের এবারের পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছিল এবং তিনি ৬৫০-এর কাছাকাছি নম্বর পাবেন বলে আশা করেছিলেন। তাঁর পড়াশোনার খরচ চালাতে পরিবার জমি বিক্রি করেছিল এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় ১১ লক্ষ টাকার দেনায় ডুবে ছিল। প্রদীপের এই মৃত্যুর পর এনএসইউআই সভাপতি বিনোদ জাখরের উদ্যোগে রাহুল গান্ধি নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে সব রকম সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছিলেন।
উমেশ মালির এই মর্মান্তিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটল, যার ঠিক দু’দিন পরেই অর্থাৎ ১৭ জুন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধির রাজস্থানের কোটা সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে। কোটায় আয়োজিত একটি বিশেষ কর্মসূচিতে দেশের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাগুলিতে ক্রমাগত প্রশ্ন ফাঁস এবং তার ফলে ছাত্রসমাজের ওপর তৈরি হওয়া মারাত্মক মানসিক চাপ ও আত্মহত্যার প্রবণতা নিয়ে পড়ুয়াদের সাথে সরাসরি কথা বলার কথা রয়েছে তাঁর। তার আগেই সিকারের এই জোড়া মৃত্যুর ঘটনা দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষাকবচ নিয়ে এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।
