ডিডি, ডিজিটাল ডেস্ক: সরকারি ভাতার ১,০০০ টাকা আর রেশনের ৫ কেজি চালই ছিল বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু টানা তিন মাস ধরে সেই পেনশনের টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে না আসায় চরম অনাহারে ও অবসাদে ভুগে শেষপর্যন্ত বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করলেন ৬৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা। ওড়িশার গঞ্জাম জেলার বেগুনিয়াপদা ব্লকের চাধেয়াপদা গ্রামের এই মর্মন্তুদ ঘটনাটি গত রবিবার ঘটলেও, মঙ্গলবার (১৬ জুন) তা জনসমক্ষে আসে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতা এবং সরকারি পোর্টালের কারিগরি ত্রুটি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মৃত বৃদ্ধার নাম বি সাবিত্রী ডোরা। তিনি একজন বিধবা এবং তিন মেয়ের বিয়ের পর থেকে বাড়িতে একাই থাকতেন। সাবিত্রী দেবীর মেয়ে বি চণ্ডী ডোরা কান্নায় ভেঙে পড়ে অভিযোগ করেন, “মা সম্পূর্ণভাবে প্রতি মাসের ১,০০০ টাকা বার্ধক্য ভাতা এবং খাদ্য সুরক্ষা যোজনার ৫ কেজি চালের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। গত তিন মাস ধরে টাকা না আসায় মা প্রায় প্রতিদিন ব্যাঙ্কে যেতেন খোঁজ নিতে। কিন্তু প্রতিবারই তাঁকে খালি হাতে ফিরতে হতো। এই চরম অনাহার ও মানসিক কষ্ট সহ্য করতে না পেরেই মা ঘরে থাকা কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন।”
বেগুনিয়াপদা ব্লকের বিডিও সুনীল কুমার সামন্ত নিশ্চিত করেছেন, ওই বৃদ্ধা ‘ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় বার্ধক্য ভাতা যোজনা’র একজন নথিভুক্ত উপভোক্তা ছিলেন এবং চলতি বছরের মার্চ মাসের পর তিনি আর কোনো টাকা পাননি। ঘটনাটিকে “দুর্ভাগ্যজনক” অ্যাখ্যা দিয়ে বিডিও জানিয়েছেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে এমকেসিজি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে এবং পঞ্চায়েত আধিকারিককে প্রাথমিক তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে নেমে এক সরকারি আধিকারিক স্বীকার করেছেন যে, এই সমস্যা শুধু সাবিত্রী দেবীর একার ছিল না। গঞ্জাম জেলাতেই ‘জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি’ (NSAP)-র অধীনে থাকা প্রায় ১ লক্ষ ৪৯ হাজারের বেশি উপভোক্তা গত তিন মাস ধরে তাঁদের মাসিক পেনশন পাননি।
দিগপাহান্ডি ব্লকে ভাতার দাবিতে ধরনায় বসা কাইথাকান্ডির সরপঞ্চ মনোরঞ্জন গৌড় বলেন, “এই উপভোক্তাদের সিংহভাগই চরম দরিদ্র এবং এই পেনশনের সামান্য টাকার ওপরই তাঁদের জীবন-মরণ নির্ভর করে। তিন মাস ধরে টাকা বন্ধ থাকায় হাজার হাজার পরিবার আজ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে।” এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর ওড়িশার বিদ্যালয় ও গণশিক্ষা এবং তফশিলি জাতি-উপজাতি কল্যাণ মন্ত্রী নিত্যানন্দ গোন্ড সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সরকারি পোর্টালের কিছু কারিগরি ও সফটওয়্যার ত্রুটির কারণে এই বিপর্যয় ঘটেছে। তিনি দ্রুত এই সফটওয়্যারের সমস্যা মিটিয়ে সমস্ত বকেয়া টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর আশ্বাস দিয়েছেন। তবে প্রশাসনের এই যান্ত্রিক ত্রুটি ও গাফিলতি যে একটি অসহায় প্রাণ কেড়ে নিল, তা নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
