ডিডি, ডিজিটাল ডেস্ক: ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) পরিচালিত বিভিন্ন জাতীয় স্তরের প্রবেশিকা পরীক্ষায় লাগাতার অনিয়ম এবং তার জেরে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হওয়া তীব্র মানসিক উদ্বেগ ও অবসাদ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল সংসদের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি। সরকারের নানাবিধ সংশোধনী পদক্ষেপ সত্ত্বেও পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় ত্রুটি রয়েই গেছে বলে মনে করছে তারা। উচ্চশিক্ষা বিভাগের ‘ডিমান্ডস ফর গ্র্যান্টস’ (২০২৫-২৬)-এর সুপারিশমালার ওপর সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি ৩৮১তম প্রতিবেদনে এই পর্যবেক্ষণগুলি তুলে ধরেছে ‘শিক্ষা, নারী, শিশু, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটি’।
দিগ্বিজয় সিং-এর নেতৃত্বাধীন কমিটির পর্যবেক্ষণ
কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা দিগ্বিজয় সিং-এর নেতৃত্বাধীন এই সংসদীয় কমিটি তাদের রিপোর্টে স্পষ্ট উল্লেখ করেছে, গত দুই বছরে পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় আমূল সংস্কারের কথা বলা হলেও বাস্তব চিত্রটি এখনও হতাশাজনক। রিপোর্টে বলা হয়েছে, “কমিটি লক্ষ্য করেছে যে, ইসরোর প্রাক্তন চেয়ারম্যান ড. কে রাধাকৃষ্ণনের নেতৃত্বে গঠিত উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্টিয়ারিং কমিটির সুপারিশগুলি বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রক বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, এত সব ব্যবস্থার পরেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো অনিয়ম এখনও ঘটছে। এর ফলে একের পর এক পরীক্ষা বাতিল করতে হচ্ছে, যা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য দিনরাত পরিশ্রম করা কোটি কোটি ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে তীব্র হতাশা এবং মানসিক অস্থিরতা তৈরি করছে।” কমিটি এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রককে একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ভিত্তিক রোডম্যাপ জনসমক্ষে প্রকাশ করার জোরালো সুপারিশ জানিয়েছে।
রিপোর্টে কমিটি পূর্ববর্তী একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গের অবতারণা করেছে। ২০২৪ সালের ১৬ জুন কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সংসদে দাঁড়িয়ে স্বয়ং স্বীকার করেছিলেন, “এনটিএ-র পরিকাঠামোয় আরও অনেক বেশি উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।” কমিটি মন্ত্রীর সেই বক্তব্যকে পুনর্বার মনে করিয়ে দিয়ে বলেছে, দেশজুড়ে একটি নিশ্ছিদ্র ও স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সমস্ত অংশীদানদের সাথে দ্রুত আলোচনা শেষ করে সংস্কারের প্যাকেজটি অবিলম্বে বাস্তবায়িত করা দরকার।
সংসদে শিক্ষা মন্ত্রকের সাফাই
সংসদীয় কমিটির এই কড়া পর্যবেক্ষণের জবাবে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে সংসদের টেবিলে বেশ কিছু পরিসংখ্যান ও যুক্তি পেশ করা হয়েছে। মন্ত্রক জানিয়েছে, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত এনটিএ ২৫০টিরও বেশি পরীক্ষা অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেছে, যার সাথে জড়িয়ে ছিলেন প্রায় ৫.৫ কোটিরও বেশি পরীক্ষার্থী। এছাড়াও, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে ড. কে রাধাকৃষ্ণনের কমিটি যে বিশদ রিপোর্ট জমা দিয়েছিল, তার ভিত্তিতে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্টিয়ারিং কমিটি কাজ করছে। এই নতুন ব্যবস্থার অধীনে এনটিএ-র অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো শক্তিশালী করা, ডেটা সিকিউরিটি প্রোটোকল উন্নত করা এবং রাজ্য সরকার ও পরীক্ষা গ্রহণকারী সংস্থাগুলির সাথে সমন্বয় আরও সুদৃঢ় করার কাজ চলছে।
তবে সংসদীয় কমিটি সরকারের এই জবাবে সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট হতে পারেনি। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে যেভাবে একের পর এক প্রবেশিকা পরীক্ষা নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, তাতে দেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার ওপর সাধারণ পড়ুয়া ও অভিভাবকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি ‘পাবলিকলি অ্যাভেলেবল’ বা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত বাস্তবায়ন সূচি প্রকাশের জন্য অনড় অবস্থান নিয়েছে কমিটি।
